পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাম দলগুলো ও কংগ্রেস। মমতার জোট বাঁধার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তার ক্রেডিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম থেকে কংগ্রেস। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসও মমতার জোট বাঁধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেসকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রীয় জোট গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের পূর্ববর্তী মন্তব্যের বিষয়ে নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাজ্য নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জাতীয় স্তরের আলোচনা সত্ত্বেও তারা রাজ্য স্তরে মমতাকে সমর্থন করবেন না।
সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা তার নেই এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, বাংলায় বিজেপি’র উত্থানের জন্য তিনিই একমাত্র দায়ী। সুজন চক্রবর্তী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছেন মমতাই। দেশে বিজেপি বিরোধিতার সময় তার দল দূরত্ব বজায় রেখে চলতো। ফলে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে মমতা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন সুজন। তার কথায়, বিজেপি যে একটা ভয়ঙ্কর শক্তি, একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি, মানুষ এটা ক্রমশ বুঝতে পারছেন এবং বুঝতে পারবেন।
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মমতাই বিজেপিকে এই রাজ্যে ডেকে এনেছেন। কংগ্রেস ও বামদের দুরমুশ করার জন্য বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন। এই নির্বাচনের আগেও তিনি কারও সঙ্গে জোট করতেও আগ্রহ দেখান নি।
শনিবার মমতা বলেছেন, ভয় না পেয়ে বাংলার যত রাজনৈতিক বিরোধী দল আছে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমি আবেদন জানাচ্ছি, যদি মনে হয় আবেদনটা গ্রহণযোগ্য, তাহলে গ্রহণ করবেন। তা নাহলে করবেন না। এটা আপনাদের অধিকার। কিন্তু আবেদন জানাতে তো কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে বাম ও অতিবামদের নিয়েও তিনি চলতে রাজি বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি’র বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই রাস্তায় নামার পরামর্শ দিয়েছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর বাম ও অতিবামদের নিয়ে জোট বাঁধার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, গোটা দেশ জুড়ে বিজেপিবিরোধী একটা বড় প্ল্যাটফরম রয়েছে, ইন্ডিয়ায়। সেই জোটে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থিরা সবাই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র সন্ত্রাস ও হিংসার বিরুদ্ধে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনে রাস্তায় রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় নামুন। রাস্তাতেই সব বিরোধীদের দেখা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে মমতার বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ার পদক্ষেপকে পশ্চিমবঙ্গে একটি পতনোন্মুখ রাজনৈতিক সংগঠনকে বাঁচানোর জন্য এক ‘একাকী যোদ্ধার’ প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিজেপি’র পক্ষ থেকে মমতার পদক্ষেপের সমালোচনা করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী বিপর্যয় ঢাকার একটি প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে বর্তমানে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন।