অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা এখন যৌন সহিংসতাকে একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) আলজাজিরার খবরে জানানো হয়, সম্প্রতি জর্ডান উপত্যকায় কাসায় আবু আল কাবাশ নামে এক বেদুইন যুবকের ওপর চালানো ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ঘটনা এই অমানবিক কৌশলের এক চিত্র সামনে এনেছে।
গত ১৩ মার্চ গভীর রাতে ৭০ জনেরও বেশি সশস্ত্র ইসরায়েলি তাদের এলাকায় হামলা চালিয়ে কাসায়কে মারধর ও যৌন নির্যাতন করে, যা তাকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের ওপর এ ধরনের নিপীড়ন এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ২০ এপ্রিল ওয়েস্ট ব্যাংক প্রোটেকশন কনসোর্টিয়ামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, গত তিন বছরে এই অঞ্চলে যৌন সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়া পরিবারগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জানাচ্ছে, নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের হুমকিই ছিল তাদের ঘর ছাড়ার প্রধান কারণ।
খবরে বলা হচ্ছে, সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে অধিকাংশ ঘটনাই প্রকাশ পাচ্ছে না। ফলে প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।
কেবল বসতি স্থাপনকারী নয়, চেকপয়েন্টগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের হাতেও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জেনিন শরণার্থী শিবিরের ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আবির আল সাব্বাগ জানান, তল্লাশির নামে ইসরায়েলি নারী সেনারা তাকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করে।
হেব্রনের মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। চেকপয়েন্টগুলোতে নারী ও কিশোরদের নিয়মিত যৌন হয়রানি করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই বন্ধ করে দিয়েছে।
ভয়াবহ এই নির্যাতনের ছায়া বিস্তৃত হয়েছে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতেও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দিদের ওপর ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
তুলকারেমের সাংবাদিক সামি আল সাই নিজের বন্দি জীবনের বর্ণনা দিয়ে জানান, ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনের ফলে আঘাত পেয়ে দুই সপ্তাহ ধরে রক্তক্ষরণ হলেও তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত এসব ঘটনায় দোষী সেনাদের শাস্তির পরিবর্তে রাজনৈতিক চাপে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি।