Image description

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। লড়াই কেবল আর ভোটের মাঠে নয় বরং এক ধরনের অঘোষিত রাজনৈতিক যুদ্ধে রুপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন- বিজেপি নির্বাচনে জিততে রাফাল বিমান ছাড়া সব নামিয়েছে। তার এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং কেন্দ্রীয় শক্তির অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে সামনে এনে নির্বাচনকে এক অসম লড়াই হিসেবে চিত্রিত করছে।

প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ প্রকট হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার নামে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছে। এতে করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মমতার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে এই নিরাপত্তা বলয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাঁজোয়া যান ও বাহিনী নামিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক ভাষণ নয় বরং ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি শক্তিশালী বার্তা।

অন্যদিকে, অমিত শাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মমতা সরকারকে আক্রমণ করেছেন এবং তরুণদের জন্য বছরে এক লাখ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়নমূলক ইস্যুকে সামনে আনার চেষ্টা করছেন। তবে একই সঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছেন।

এই নির্বাচনকে ঘিরে ‘ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ’-এর ‘কালো দিবস’ পালনের ডাক এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতান্ত্রিক উৎসব, নাকি ক্ষমতার জন্য এক কঠিন সংঘর্ষ?