Image description

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ওই পরীক্ষার্থীর নাম মোস্তফা আনজুম আবির। সে যশোর জিলা স্কুলের পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থীর মা এবং জিলা স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আবিরকে আলাদা কক্ষে বসানো হয়। সেখানে প্রথমে তাকে ২০২৬ সালের রচনামূলক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এরপর দেওয়া হয় ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র। 

ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্ন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ঠিকমতো উত্তর দিতে পারেনি। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি অভিভাবকদের চোখে ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রথমে জিলা স্কুলে যান। 

সেখান থেকে বলা হয়, যেহেতু সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ঘটনা, ফলে ওই কেন্দ্রে গিয়ে কথা বলতে হবে। এরপর সেখানে যাওয়ার পর কেন্দ্রসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিষয় মিলে পাস। ফলে, দ্বিতীয়পত্র ভালো করে পরীক্ষা দিলে পাস হয়ে যাবে। এর বাইরে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হবে সমস্যা সমাধানের জন্য।’ 

কেন্দ্রসচিবের এ ধরনের বক্তব্য হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রের দায়িত্বহীনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা হওয়ার পর আর কিছুই করার থাকে না। পরীক্ষার্থীর মা বলেন, ‘ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছে। কেন্দ্রে এসেছি, দেখি ওনারা কী করেন।’

কেন্দ্রসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বোর্ডে আবেদন করে কিছু করা যায় কি না, চেষ্টা করা হবে।

জিলা স্কুলের প্রধানশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘পরীক্ষার্থী আমাদের। কিন্তু তার কেন্দ্র যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। অভিভাবকরা আমাদের কাছে এসেছিলেন। তাদের সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমাদের এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই।’

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম বলেছেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই ডিসির সাথে কথা বলেছি। তাকে জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করিয়ে বোর্ডে প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) মৌখিক নির্দেশে বুধবার তদন্তের জন্য সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষ হলে রিপোর্ট দিয়ে দেব।’