Image description

পাকিস্তানে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা চলা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যে কঠোর শর্তগুলো দিয়েছিল, তা মানতে রাজি হয়নি ইরান। রবিবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা ইরানের জন্য কিছু ‘অপরিবর্তনীয় শর্ত’ ঠিক করেছিল, যা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না। তবে এসব শর্তের বেশিরভাগই আগে থেকেই ইরান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পরও তেহরান তার কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়া) বন্ধ করতে হবে। তাদের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। এছাড়া মাটির নিচে রাখা প্রায় ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম তুলে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি ইরানকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্ত হতে হবে এবং হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিকে অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে এবং যাতায়াতে কোনো শুল্ক নেওয়া যাবে না—এমন শর্ত দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

পাকিস্তান ত্যাগ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এটি ছিল তাদের পক্ষ থেকে ‘সেরা ও শেষ প্রস্তাব’। ইরান চাইলে এখনো এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে।

তিনি বলেন, আলোচনার পরিবেশ কখনো কখনো কঠিন হলেও পুরোপুরি বৈরী ছিল না। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রেখে আলোচনার পর দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা পারস্পরিক সম্মানও তৈরি হয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আগে যেসব শর্ত মানেনি, সেগুলো এখনই মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ থাকায় ইরান মনে করছে, তাদের হাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন মনে করছে, যুদ্ধের পর ইরান অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই এখনই শর্ত মেনে নেওয়াই তাদের জন্য ভালো হবে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ঘোষণা দিয়েছেন। এটাকে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধের হুমকি ইরানিদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ইরানের স্পিকার বলেন, আপনারা যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই তার মোকাবিলা করব।