Image description
মতবিনিময় সভায় জামায়াত আমির

জাতির সঙ্গে ধোঁকা, প্রতারণা ও গাদ্দারি করে বিএনপি যাত্রা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই শহীদরা কোনো দলের নয়; তারা জাতির সম্পদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে। রোববার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়’ তিনি এমন মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ক্ষমতার চেয়ার নির্মম। ক্ষমতা মানুষকে অতীত ভুলিয়ে দেয়। সংসদে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা সরকারদলীয় প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গায়ের জোরে বিএনপি গণভোট ফেলে দিয়েছে। গণভোটকে ফেলে দেওয়া জাতিকে অপমান করার শামিল। ফ্যাসিবাদের পক্ষে বিএনপি অবস্থান নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঘুঘু বারবার ধান খায়। একবারই ধরা পড়ে। ইনশাআল্লাহ রাজনৈতিক ঘুঘুও জালে ধরা পড়বে।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর বলেন, ৭১ সালে বিএনপির জন্ম না হলেও অর্জন নাকি তাদেরই। নব্বইও তাদের, চব্বিশও তাদের। তাহলে এ গাদ্দারি কেন? আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়নে এক বিন্দুও ছাড় দেব না। জীবন তো একটাই-জীবন দেব তবুও জনগণের দাবি আদায়ে পিছপা হব না। মিথ্যার সঙ্গে আপস করব না। আমাদের ফাঁসি দেবে, আমরা হাসতে হাসতে ঝুলব। বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্রিকেট বোর্ড, জেলা প্রশাসকসহ সব জায়গায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী কায়দায় একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপি সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফজ্জল হোসেন মিয়াজি, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত ব্যক্তিরা তাদের অনুভূতি ও মতামত জানিয়ে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো একটি দলের বিষয় নয়, এটি কোনো জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যাতে বৃথা না যায়, এটি সেই উদ্যোগের বিষয়। জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনাদের পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়াতে পারিনি। এর পরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। আপনাদের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ থাকবে-আমরা আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেই লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।

নাহিদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বড় বড় কথা বলে; আমরা দেখতে চাই তারা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এবং সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে বেশি কী করছে। তিনি বলেন, জুলাই অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠন করা হয়েছিল। তারা সেই বিষয়গুলো কিছুটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পরবর্তী বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তারা তিন দলীয় জোটের রূপরেখা অস্বীকার করেছিল। বর্তমানে তারা জুলাই সনদের কথা বললেও আসলে একে কলুষিত করেছে। তারা জোর করে সংস্কারের জায়গায় দলীয় ইশতেহারের বিষয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। জুলাই সনদ কোনো দলীয় ইশতেহার হতে পারে না। পুলিশ ও বিচার বিভাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে আমরা দেখেছি কীভাবে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা দেখছি বিচারপতি নিয়োগ ও পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে টালবাহানা করা হচ্ছে। তারা হয়তো আবারও ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী’ তৈরির চেষ্টায় রয়েছে। এ কারণে সংস্কার অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।