পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিআই নিউজ। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ আরো শীর্ষ কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
জানা গেছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি কারিগরি কমিটিগুলো ইতোমধ্যে পৃথক বৈঠক করেছে এবং মূল আলোচনায় বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে, যা সংলাপকে আরো কাঠামোবদ্ধ ও ফলপ্রসূ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের দুই সপ্তাহের বিরতির মধ্যে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলেই এ সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এ প্রথমবারের মতো এত উচ্চপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি। তবে জটিল ইস্যুগুলোর কারণে দ্রুত সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য স্থায়ী সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন আলোচনা সাধারণ বিষয়গুলো ছাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত আলোচনায় প্রবেশ করলেও আলোচনা একদিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে বলে জল্পনা চলছে, যদিও তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। ইসলামাবাদে পাঠানো তাসনিমের সংবাদদাতা গতকাল বিকেলে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক আলোচনা ও পরামর্শের পর ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে সংলাপ এখন কিছু সাধারণ বিষয় ছাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বিস্তারিত ও প্রযুক্তিগত আলোচনায় প্রবেশ করেছে। সে অনুযায়ী, উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ের বিস্তারিত খতিয়ে দেখছেন। আলোচনাটি প্রাথমিকভাবে একদিনের অধিবেশন হিসেবে পরিকল্পিত হলেও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটি আরো একদিন বাড়ানো হতে পারে। তবে, এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের মরহুম নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারের হত্যাকা-ের পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ অঞ্চলে এবং অধিকৃত ভূখ-ে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোর ওপর হামলা চালায়, যা কার্যকরভাবে পাল্টা জবাব দেয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করে। আগ্রাসনকারীদের দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশার বিপরীতে, ৪০ দিন ধরে চলা ইরানের শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যা ইসলামাবাদে আলোচনার সুযোগ করে দেয়। ইরান এই আলোচনার জন্য একটি দশ-দফা পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার মধ্যে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার মনোভাব বজায় রেখেছে এবং দাবি করছে যে, এই আলোচনার উদ্দেশ্য সংঘাত নিরসন করা নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রকে কূটনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে আসা।
শান্তির পথে ‘প্রথম ধাপ’ বললেন শাহবাজ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে প্রথম ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
গতকাল ইসলামাবাদে পৌঁছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, এ আলোচনায় দুই পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন- এ সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইলকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নকভি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল সকালে ইসলামাবাদে পৌঁছান মার্কিন প্রতিনিধি দল। নূর খান এয়ারবেসে তাদের স্বাগত জানান ইসহাক দার, মহসিন রেজা এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলও আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এ প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আলোচনার পথ মোটেও সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে ইরান দাবি করছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের অধিকার এবং বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা। এছাড়া লেবাননে হামলা বন্ধ, আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি-এসব বিষয়েও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ আবারও শুরু হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আলোচনাকে সফল করতে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দু’দিনের এ প্রাথমিক বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তি নাও আসতে পারে। তবে এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে এবং উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এর সাফল্য এখনো অনিশ্চিত।
পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা বৈঠক
ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেছে ইরানি প্রতিনিধি দল। এতে নতুন করে বার্তা বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সীর ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইরানি প্রতিনিধিরা আবারও পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে শুক্রবার রাতেও একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এ ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান হতে পারে, যা আলোচনার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাত ৪০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে ইসলামাবাদে আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে বলছে, এ আলোচনা মূলত সামরিক সংঘাত থেকে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্থানান্তরের একটি কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের একাধিক বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসলামাবাদ এ সংলাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
ইসলামাবাদ সংলাপ ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’: বিলাওয়াল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে চলমান সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারী।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আলোচনা হচ্ছে-এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়েছে এবং দুই প্রধান শক্তি এখন আলোচনায় বসেছে’।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী সমাধান ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
বিলাওয়াল বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে- শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং এর অর্থনৈতিক প্রভাবও বিশ্বজুড়ে অনুভূত হয়েছে। তাই এই সংলাপকে ঘিরে বিশ্ববাসী ‘সতর্ক আশাবাদ’ নিয়ে তাকিয়ে আছে।
তিনি আরো বলেন, এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব করতে শুধু পাকিস্তান নয়, বরং চায়না, সউদী আরব, তুর্কিয়ে, মিসর ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ সম্মিলিতভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিলাওয়ালের মতে, গত ছয় সপ্তাহের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। ‘স্থায়ী শান্তির জন্য মধ্যপন্থা খুঁজে বের করা জরুরি, নইলে এই সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে’, বলেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আপাতত সব পক্ষের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত চলমান সংকটের সমাধান। আর সেটি সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যদিও সামনে এখনো রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।
ইসলামাবাদ সংলাপ ঘিরে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানি গণমাধ্যম
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সংলাপকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আগ্রহ, আর এতে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সীর ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি সাংবাদিক রাজধানীর মিডিয়া সেন্টারে জড়ো হয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতিটি মুহূর্ত কাভার করতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক পাকিস্তানি সাংবাদিক ইরানি প্রতিনিধিদের প্রতি উষ্ণতা প্রকাশ করছেন এবং ইরানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও দেখাচ্ছেন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ৪০ দিনের সংঘাতে অধিকাংশ পাকিস্তানি জনগণ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে ইসলামাবাদে আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।
এ সংলাপে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে বলেছে, এ আলোচনা সরাসরি সংঘাত সমাধানের জন্য নয়, বরং কূটনৈতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্থানান্তরের একটি কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে এ আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহ দেশটির কূটনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রতিফলন এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করছে। সূত্র : ডন অনলাইন, তাসনিম নিউজ এজেন্সী।