Image description

রফতানিমুখী শিল্প খাতকে সহায়তা দিতে আবারও স্বল্পসুদে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান ১০ হাজার কোটি টাকার রফতানি সহায়ক প্রাক–অর্থায়ন তহবিল থেকে এই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে তহবিল সংগ্রহ করে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে রফতানিকারকদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবে। 

এই ঋণ মূলত রফতানি পণ্য জাহাজীকরণের আগে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ও প্রস্তুতিমূলক ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হবে। কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিক মজুরি, প্যাকেজিংসহ প্রি-শিপমেন্ট পর্যায়ের ব্যয় নির্বাহে রফতানিকারকেরা এ সুবিধা নিতে পারবেন।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে কোনও একক প্রতিষ্ঠান এক সময়ে সুদসহ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে পারবে না। এ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।  

এর আগে করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো রফতানিকারকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছিল। পাঁচ বছরের জন্য গঠিত সেই তহবিলের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে। এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।  

বর্তমান উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান সংঘাতসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্প খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে।  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রফতানি সহায়ক প্রাক–অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই তহবিল থেকেই সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ঋণ হিসেবে পুনঃঅর্থায়ন করা হবে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পসুদে এই ঋণ সুবিধা রফতানিকারকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে।