ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান হয়েছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ফিলিপাইনে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গত এক মাসে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজার আশ্বাস দিয়েছেন।
দেশটির উত্তরাঞ্চল প্রধান সবজি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে কৃষকদের ওপর জ্বালানির বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে। উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম কম থাকলেও রাজধানী ম্যানিলাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং গণপরিবহন শ্রমিকরা একযোগে রাস্তায় নেমেছেন। তারা শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের দাবিও জানাচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ আইন পুনর্বিবেচনা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং আবগারি কর বাতিল।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
তেল সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাবে খুব কম দেশই ফিলিপাইনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটি ৯৮ শতাংশ তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। গত ৩ সপ্তাহে একাধিকবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে দেশটিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ফিলিপাইনের কাছে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।’
জ্বালানি সরবরাহের প্রতি ‘আসন্ন বিপদের’ কথা উল্লেখ করে এক নির্বাহী আদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, ‘এই ঘোষণাটি সরকারকে জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বৃহত্তর অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ক্ষমতা দেবে।’