মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব হামলার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী রিয়াদে ইরান থেকে ছোড়া চারটি ড্রোন আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ড্রোন লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব একাধিকবার ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থান এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত দু’জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাত সংখ্যক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলেও। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আহতদের কেউ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেটের আঘাতে এবং কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংঘাতের জেরে মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।