Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চবি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টর ড. মো. তানভীর হায়দার আরিফসহ অন্তত ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

রবিবার (৩১ আগস্ট) দিনভর চলা সংঘর্ষের কারণে ক্যাম্পাস ও আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আহত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের সংকট দেখা দেয়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে হলে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের সহপাঠী, বন্ধু এবং সিনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রান্না করা খাবার নিয়ে। নিজেদের হাতেই রান্না করা খাবার তারা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আহত শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করেন। 

রান্না করে নিয়ে আসা একজন নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‌‘আমাদের ভাইয়েরা রক্ত ঝরাচ্ছে, না খেয়ে আছে, ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এই সময় আমরা যদি পাশে না দাঁড়াই, তাহলে আর কখন?’ অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ক্যাম্পাসের দোকানপাট বন্ধ, বাইরেও যাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় আমরা নিজেরাই রান্না করে খাবার দিয়ে যাচ্ছি। এটা আমাদের ভাইদের প্রতি বোনের দায়িত্ব।’

বহিরাগতদের হামলায় আহত হওয়া সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পারভেজ বলেন বলেন, ‘দিনভর স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলা চলছে। এমন অবস্থায় সকাল থেকে না খেয়ে আমার সহপাঠীদের রক্ষায় বহিরাগতদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি। সারাদিন না খেয়েই কেটেছে, ভেবেছিলাম রাতটা হয়তো না খেয়েই কাটাতে হবে। কিন্তু শহীদ মিনার প্রাজ্ঞণে আমার বোনেরা যে মানবিকতা দেখিয়েছে। সেটা সত্যিই অবিশ্বা্স্য ছিল আমার কাছে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে। এতে এতে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও প্রক্টর মোহাম্মদ তানভীর হায়দার আরিফসহ অন্তত ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে বিক্ষোভ শুরু করে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ফের হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চবির আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।