Image description

অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়নি এক বছরেও। উল্টো সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচিত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ওমর ফারুক। তিনি সদর উপজেলার সগুনা গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

তদন্ত ঝুলিয়ে রেখে তাকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অন্য শিক্ষকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, গত ১৭ মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটি ওমর ফারুককে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করে। অথচ গত বছরের ১৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ টাইম স্কেল ও অতিরিক্ত বেতন গ্রহণ, ভুয়া শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা, গাছ কেটে আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ ডজনখানেক অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন কয়েকজন শিক্ষক।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলামকে তদন্তভার দেওয়া হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও প্রায় এক বছরেও তা জমা পড়েনি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত না করার কারণ আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’ তবে জনসমক্ষে তিনি এর কারণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পদক কমিটির সদস্যসচিব শামীম ইকবাল বলেন, ‘ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অযোগ্য বিবেচনা করা যায় না।’

এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেছের আলী জেলা প্রশাসনের নির্দেশনামূলক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালেও পাইকড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের সত্যতা পেয়েছিলেন তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর ইসলাম। তখন তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও পরে তিনি শর্ত ভেঙে সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে পোস্টিং নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের পক্ষে হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক নেতা হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে তিনি তদন্ত আটকে রেখেছেন। আমাদের কাছে তার দুর্নীতির সব প্রমাণ রয়েছে। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হলে এই পুরস্কারের আর কোনো মান থাকে না।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বদলি হওয়া এক শিক্ষা কর্মকর্তার ইন্ধনে কয়েকজন শিক্ষক আক্রোশবশত আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।’