Image description
সিনেমার সাফল্য, জনপ্রিয়তা কিংবা অভিনয়জীবনের অর্জনের পাশাপাশি এখন তারকাদের প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব ধরা হয় সামাজিক যোগযোগমাধ্যম। বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা। অবশ্য কোনো তারকার অভিনয়দক্ষতা, সাফল্য বা গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড এটি নয়; বরং সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তার একটি আলাদা চিত্র তুলে ধরে। এ তালিকায় ঢালিউডের নায়িকাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন পরীমনি। তাঁর বর্তমান ফেসবুক অনুসারী ১ কোটির বেশি। ১ কোটির মাইলফলক পেরিয়েছেন ৯০ দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও। অন্যদিকে অপু বিশ্বাস, নুসরাত ফারিয়া ও বিদ্যা সিনহা মিম—তিনজনেরই অনুসারী ৫০ লাখের বেশি। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা ঢালিউডের এই পাঁচ নায়িকার বর্তমান অবস্থান।

৫. বিদ্যা সিনহা মিম (৬৬ লাখ)

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু বিদ্যা সিনহা মিমের। ২০০৭ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এরপর প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের একটি নাটকেও অভিনয় করেন মিম। অভিনয়ের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের শুরুতে মডেলিংয়েও ছিলেন সমান ব্যস্ত।

শুরু থেকেই গল্প ও চরিত্রের বিষয় বেছে কাজ করেন মিম। সময়ের সঙ্গে নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। ‘সাপলুডু’, ‘পরাণ’, ‘দামাল’, ‘ইত্তেফাক’, ‘অন্তর্জাল’ ও ‘মালিক’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় সেই চেষ্টারই অংশ।

সর্বশেষ চরকি অরিজিনাল ‘লাইফলাইন’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান মিম। বর্তমানে তাঁর অভিনীত ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শমী কায়সার পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর সহশিল্পী মুস্তফা মন্ওয়ার। এ ছাড়া নতুন কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নতুন সিনেমায় খুব বেশি দেখা না গেলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণায় নিয়মিত কাজ করছেন মিম। পাশাপাশি ফেসবুকেও বেশ সক্রিয় তিনি। পেশাগত বিভিন্ন আপডেটের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে স্বামীর সঙ্গে ভ্রমণের ছবি ও স্মৃতি নিয়মিত ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। ফেসবুকে বিদ্যা সিনহা মিমের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৬৬ লাখের বেশি

৪. নুসরাত ফারিয়া (৭২ লাখ)

গানের ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু নুসরাত ফারিয়ার। এরপর উপস্থাপনা ও মডেলিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘আশিকী’ দিয়ে। এ ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন কলকাতার অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা।

প্রথম ছবির সাফল্যের পর চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে তাঁর। অভিনয়জীবনে নুসরাত ফারিয়ার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’ চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেন। সর্বশেষ তাঁকে দেখা গেছে ‘জ্বীন থ্রি’ সিনেমায়, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন সজল।

শিগগিরই মেহেদী হাসান পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘টুটুলের টাকা’র শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি গানও গেয়ে থাকেন নুসরাত ফারিয়া। তাঁর প্রকাশিত কয়েকটি গান যেমন দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি কিছু গান নিয়ে সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন ফারিয়া।

সামাজিক যোগযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই তারকা। নিজের কাজের খবর, নতুন প্রকল্প ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। বর্তমানে ফেসবুকে নুসরাত ফারিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি।

৩. অপু বিশ্বাস (৯৪ লাখ)

আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু অপু বিশ্বাসের। তবে অভিনয়ে আসার আগে ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে বিভিন্ন নৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন, পরে নাটকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করেন অপু বিশ্বাস। এরপর চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেই শুরুতেই শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘কোটি টাকার কাবিন’-এর সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

দুই দশকের অভিনয়জীবনে প্রায় শ খানেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস। এর মধ্যে প্রায় ৮০টির মতো সিনেমায় তিনি সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন শাকিব খানকে। শাবনূর, মৌসুমী, পপি ও পূর্ণিমার পরবর্তী প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অপু বিশ্বাস।

বর্তমানে নতুন সিনেমায় খুব বেশি দেখা না গেলেও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন অপু। গত বছরের শেষ দিকে ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’—দুটি নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন। ছবি দুটির শুটিং শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন সজল ও আদর আজাদ।

সর্বশেষ মুক্তি পেয়েছে অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘ছায়াবৃক্ষ’ চলচ্চিত্র। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণায়ও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় অপু বিশ্বাস। পেশাগত কাজের খবরের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তও নিয়মিত ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৯৪ লাখের বেশি।

২. পূর্ণিমা (১ কোটি)

স্কুলজীবনে মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পূর্ণিমার। ১৯৯৮ সালের ১৫ মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করে প্রথমবার মানুষের নজর কাড়েন তিনি। এরপর ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘যোদ্ধা’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’ ও ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’সহ একের পর এক জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডের প্রথমসারির নায়িকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ে এখন আগের মতো নিয়মিত না হলেও বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ তাঁকে দেখা গেছে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে। নতুন সিনেমার প্রস্তাবও পাচ্ছেন নিয়মিত, তবে গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলেই কেবল কাজ করতে আগ্রহী তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে পূর্ণিমা উপস্থাপক হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়ও দেখা গেছে তাঁকে। শুধু উপস্থাপনা নয়, রান্নার একটি অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবেও দেখা গেছে পূর্ণিমাকে। সম্প্রতি শাকিব খানকে নিয়ে ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে নতুন করে আলোচনায় আসেন এই নায়িকা। দর্শকনন্দিত সিনেমা যেমন পূর্ণিমা উপহার দিয়েছেন, তেমনি তাঁর অভিনীত নাটক–টেলিছবিও মানুষ পছন্দ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমান জনপ্রিয় পূর্ণিমা। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন পেশাগত কার্যক্রমের আপডেট নিয়মিত শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে উপহার দেওয়া তাঁর জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্য, গান ও বিভিন্ন মুহূর্তগুলো আজও ফেসবুকে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসে। বর্তমানে পূর্ণিমার ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা এক কোটির বেশি।

১. পরীমনি (১ কোটি ৭০ লাখ)

নাটক দিয়েই অভিনয়জীবন শুরু পরীমনির। তাঁর অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ইদ্রিস হায়দার পরিচালিত ‘সেকেন্ড ইনিংস’, যেখানে ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পাসহ অনেক অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন পরীমনি। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরুটা শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে। এ ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন জায়েদ খান। প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তির আগেই প্রায় ৩০টি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

এক দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে পরীমনি অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। এর মধ্যে গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত কাজ। চিত্রনায়িকা পরীমনি সিনেমায় অভিনয় নিয়ে যতটা না আলোচিত হতে পেরেছেন, ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনায় তিনি ততটাই সমালোচিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় ঢালিউড তারকাদের একজন পরীমনি। নতুন সিনেমার খবর, শুটিংয়ের মুহূর্ত, ফটোশুট, ভ্রমণ, সন্তানকে ঘিরে স্মৃতি কিংবা ব্যক্তিজীবনের নানা অনুভূতি—সবই নিয়মিত শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় তিনি ঢালিউডের অন্য সব নায়িকাকে ছাড়িয়ে গেছেন। বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক অনুসারী ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি।