ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দারুণ দাপটই দেখাল বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ দশমিক ১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন ওপেনার তানজিদ হাসান। ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করে দলকে সহজ জয়ের পথে নেন। তার সঙ্গে ২৭ রান করেন নাজমুল হোসেন।
তবে জয়ের ভিত গড়ে দেন পেসার নাহিদ রানা। আগুনে বোলিংয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ভেঙে দেন তিনি। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারও করেন এই পেসার।
বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ২০৯ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর করে টাইগাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে মাত্র দুটি ম্যাচে জিতেছিল বাংলাদেশ।
মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা দারুণ ছিল বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে পয়েন্টে শামিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান।
এরপর ইনিংস সামাল দেন নাজমুল শান্ত। তানজিদ তামিমকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৩৮ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন তিনি। সপ্তম ওভারে আফ্রিদিকে টানা তিন চার মেরে দলীয় রান পঞ্চাশ পার করেন শান্ত। অন্য প্রান্তে দারুণ ছন্দে থাকা তানজিদ মাত্র ৩২ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি।
জয়ের কাছাকাছি গিয়ে ৩৩ বলে ২৭ রান করে ওয়াসিমের বলে ক্যাচ দেন শান্ত। তবে শেষ পর্যন্ত লিটনকে সঙ্গে নিয়ে অনায়াসেই জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। শেষমেশ ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করেছিলেন দলটির অভিষিক্ত দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাহিদ রানা আক্রমণে আসার পরপরই বদলে যায় সব সমীকরণ।
দশম ওভারে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরানোর পর নিজের পরের দুই ওভারেও আরও দুই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান নাহিদ। তার বিধ্বংসী স্পেলে রীতিমতো চাপে পড়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
ক্রিজে এসে শুরু থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না অভিষিক্ত শামিল হুসাইন। নাহিদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে শুরুতেই একটি উঁচু শট খেলেন। তবে ফিল্ডার তানজিদ হাসানের হাত থেকে সে সময়ে বেঁচে যান শামিল। এরপরে ইনিংসের ১২তম ওভারে আকাশে বল তুলে দেন শামিল। এবার আর ভুল করেননি উইকেটকিপার লিটন। ৭ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
শামিলকে ফেরানোর ঠিক এক ওভার পর আবারও বল হাতে ভেলকি দেখান নাহিদ। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার সাদাকাত। ওভারের চতুর্থ বলে সাইফের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন তিনি।
এরপর রিজওয়ানও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। গুড লেংথে করা নাহিদের বলে উইকেটের পেছনে লিটমের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ফেরেন ২০ বলে ১০ রান করে।
সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে ষোল কলা পূর্ণ করেন নাহিদ। নিজের প্রথম পাঁচ ওভারেই ৫ উইকেট নেন এই পেসার। তার শর্ট বলে শর্ট স্কয়ার লেগে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন সালমান (৫)।
এরপর অবশ্য উইকেট মিছিলে নাম লেখান মিরাজও। তার বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন আব্দুল সামাদ। ডাক মেরে ফেরার পাশাপাশি একটা রিভিউও নষ্ট করেন তিনি। পরে রিভিউ নিয়ে হুসেইন তালাতকেও ফেরান মিরাজ। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রানে ফেরেন তালাত।
মিরাজের ঘূর্ণিঝড়ে শাহিন শাহ আফ্রিদিও টিকতে পারেননি। তালাতকে আউট করার এক বল পরই আফ্রিদিকে এলবিডব্লিউ করেন টাইগার দলপতি।
শেষ দিকে উইকেট মিছিলে নাম লেখান তাসকিন আহমেদও। তার বলে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
দলের এমন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ফাহিম আশরাফ। কোনো রান যোগ করতে না পারলেও ১০ বল মোকাবিলায় তাকে দারুণ সঙ্গ দেন আবরার আহমেদ। তাদের ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে দলীয় এক শ স্পর্শ করে সফরকারীরা। তবে মোস্তাফিজের শর্ট লেন্থ বলে মিড উইকেটে তাসকিনের হাতে ফাহিম ধরা পড়লে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। এক ছক্কা ও ৬ চারে ৪৭ বলে ৩৭ রানের কার্যকরী এক ইনিংস খেলে থামেন এই অলরাউন্ডার।