Image description

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যেন ক্যারিবীয় ঝড় বইয়ে দিলেন শিমরন হেটমেয়ার। চোখধাঁধানো ছক্কা আর নির্ভীক ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৯ বলেই তুলে নিলেন অর্ধশতক, যা এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি।

 

এই ইনিংসের মাধ্যমে ভেঙে গেল কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের ১৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বলে অর্ধশতক করেছিলেন গেইল। সেদিন ৫০ বলে ৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।

 

হেটমায়ারের ১৯ বলের ফিফটি সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক গড়েছে। চলতি আসরেই এর আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলে অর্ধশতক করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে ওয়াংখেড়ের ঝড়ো ইনিংস তার আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

মাত্র ১৯ বল—এই সময়েই ফিফটি পূর্ণ করে আবারও প্রমাণ করলেন, নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই ক্যারিবীয়দের স্বভাবসিদ্ধ শক্তি।

 

যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড এখন হেটমায়ারের দখলে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতকের মালিক এখনও ভারতের যুবরাজ সিং। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২ বলে ফিফটি করেন তিনি—যে ইনিংসে স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছিলেন যুবরাজ।

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দ্রুততম ফিফটি (নির্বাচিত তালিকা)

 

  • যুবরাজ সিং–১২ বল (ভারত বনাম ইংল্যান্ড, ২০০৭)
  • স্টেফানাস মাইবার্গ–১৭ বল (নেদারল্যান্ডস বনাম আয়ারল্যান্ড, ২০১৪)
  • মার্কাস স্টয়নিস–১৭ বল (অস্ট্রেলিয়া বনাম শ্রীলঙ্কা, ২০২২)
  • গ্লেন ম্যাক্সওয়েল–১৮ বল (অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান, ২০১৪)
  • রোহিত শর্মা–১৯ বল (ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০২৪)
  • দাসুন শানাকা–১৯ বল (শ্রীলঙ্কা বনাম ওমান, ২০২৬)
  • এইডেন মার্করাম–১৯ বল (দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০২৬)
  • শিমরন হেটমায়ার–১৯ বল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০২৬)
  • ক্রিস গেইল–২৩ বল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০০৯)

সব মিলিয়ে, ওয়াংখেড়ের এই ইনিংস শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়—ক্যারিবীয় ক্রিকেটের আক্রমণাত্মক ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে হেটমায়ারের এই ঝড়ো পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতেও প্রতিপক্ষের জন্য স্পষ্ট বার্তা হয়ে রইল।