Image description

অনেকেই এই ম্যাচটিকে ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ভারত তো এমনিতেই পরিষ্কার ফেভারিট ছিল, তার ওপর দক্ষিণ আফ্রিকাও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ থেকে অপরাজিত হয়ে উঠে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সহজ জয়টি প্রতিপক্ষদের জন্য সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ ১৫ ওভার পর্যন্ত দাপট দেখিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে গিয়েছিল। সেখান থেকেই দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু। এরপর ভারতে এসে টেস্ট সিরিজে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে তারা সেই হারের বদলা নিয়েছে। এবার বাজিটা অনেক বড়। এটি আর এমন কোনো ম্যাচ নয় যেখানে কেবল ভারতেরই হারানোর কিছু আছে (যদিও তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভাঙতে চাইবে না)। দক্ষিণ আফ্রিকারও হারানোর অনেক কিছুই আছে।

এই ম্যাচটি হারলে বাকি দুটি ম্যাচ ‘মাস্ট-উইন’ বা অবশ্যই জিততে হবে এমন সমীকরণে পড়ে যাবে, তবুও সেমিফাইনালের নিশ্চয়তা থাকবে না। গ্রুপ-১ এর সুপার এইট রাউন্ডের শুরুটা হতে যাচ্ছে এক ব্লকবাস্টার লড়াই দিয়ে। আহমেদাবাদের কন্ডিশন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বেশ পরিচিত, কারণ তাদের চারটির মধ্যে তিনটি ম্যাচই সেখানে হয়েছে। আর ভারতের কাছে আহমেদাবাদ নতুন করে চেনার কিছু নেই, কারণ যেকোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অবধারিতভাবেই এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে সর্বশেষ এমন একটি ম্যাচে ভারত টস হেরেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩১ রানের পাহাড় গড়েছিল এবং তাদের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল। সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ধারণাই ছিল না যে তাদের সেরা একাদশ কেমন হতে পারে। এবার তারা আশা করছে অপ্রতিরোধ্য ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে অনেক ভালো লড়াই উপহার দিতে পারবে।

আলোচনায় ইশান কিষান ও এইডেন মার্করাম

টুর্নামেন্টজুড়ে দুই দলের দুই ওপেনার আলো ছড়াচ্ছেন। কিছুদিন আগেও তাদের কেউই ওপেনিংয়ে ছিলেন না। সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ইশান কিষান হুট করেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন শেষবার ভারতের বিপক্ষে আহমেদাবাদে খেলেছিল, তখন এইডেন মার্করাম ৫ নম্বরে ব্যাট করতেন। এখন তারা দুজনেই প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ১৭০-এর বেশি রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ওপেনারদের তালিকায় আছেন। কৌশল নির্ধারণী বৈঠকে তাদের নিয়ে অনেক সময় ব্যয় হবে।

দলের খবর: 

প্রত্যাশিতভাবেই শেষ ম্যাচে আরশদীপ সিং ফিরেছিলেন, তবে ওয়াশিংটন সুন্দরকে সুযোগ দিতে অক্ষর প্যাটেলকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। একাদশে অক্ষরের ফেরাটা প্রায় নিশ্চিত।

ভারত (সম্ভাব্য): ১. অভিষেক শর্মা, ২. ইশান কিষান (উইকেটরক্ষক), ৩. তিলক ভার্মা, ৪. সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), ৫. হার্দিক পান্ডিয়া, ৬. রিঙ্কু সিং, ৭. শিবম দুবে, ৮. অক্ষর প্যাটেল, ৯. আরশদীপ সিং, ১০. জাসপ্রিত বুমরাহ, ১১. বরুণ চক্রবর্তী।

দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ম্যাচে লুঙ্গি এনগিডিকে বিশ্রাম দিয়েছিল, যাতে কাগিসো রাবাদা পূর্ণ ছন্দে ফেরার সময় পান এবং আনরিখ নরকিয়াকে যাচাই করা যায়। এখনো দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এনগিডি সম্ভবত বড় দুই পেসারের একজনকে বসিয়ে একাদশে ফিরবেন। যেহেতু এটি রাতের খেলা, তাই জর্জ লিন্ডের চেয়ে করবিন বোশের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

দক্ষিণ আফ্রিকা (সম্ভাব্য): ১. এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ২. কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), ৩. রায়ান রিকেলটন, ৪. ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ৫. ট্রিস্টান স্টাবস, ৬. ডেভিড মিলার, ৭. মার্কো জানসেন, ৮. করবিন বোশ, ৯. কেশব মহারাজ, ১০. কাগিসো রাবাদা/আনরিখ নরকিয়া, ১১. লুঙ্গি এনগিডি।

পিচ ও কন্ডিশন

আহমেদাবাদে রাতের ম্যাচগুলোতে সাধারণত প্রচুর রান হয় এবং রান তাড়া করা দল সুবিধা পায়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভারত কালো মাটির পিচে খেলেছিল, যার কারণে সারফেসে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এই ম্যাচটিও কালো মাটির পিচে হবে, তাই রানের বন্যা দেখার প্রত্যাশা কিছুটা কমিয়ে রাখা ভালো। তবুও টসজয়ী দল সম্ভবত ফিল্ডিং বেছে নেবে। ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠাটা উষ্ণতারই ইঙ্গিত দেয়, যা সামগ্রিকভাবে চিন্তার বিষয় হতে পারে। তবে ম্যাচে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

পরিসংখ্যান ও তথ্য

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হেড-টু-হেড রেকর্ড ৫-২।
  • এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মার (৫টি) চেয়ে বেশি কেউ 'ডাক' বা শূন্য রান করেননি। এর মধ্যে তিনটিই এসেছে এই বিশ্বকাপে।

সূত্র : ইএসপিএন ক্রিক ইনফো