Image description

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন আর কেবল ২২ গজের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে রাজনীতি আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ছেঁটে ফেলার ঘটনায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। একইসঙ্গে আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে মাইকেল আথারটনের অভিযোগ করেন, আইসিসি কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ হলেও বাস্তবে তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তার মতে, এই বৈষম্যমূলক আচরণই বিশ্ব ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

আইসিসিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নাসের বলেন, ধরা যাক, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে ভারত বলল আমাদের সরকার চায় না আমরা কোনো দেশে খেলতে যাই। তখন কি আইসিসি একইভাবে কঠোর অবস্থান নিত? তখন কি বলত, ‘নিয়ম তো নিয়ম, দুর্ভাগ্য, তোমাদের বাদ দেওয়া হল’?

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশ নিজেদের আত্মসম্মান বিকিয়ে দেয়নি। এ নিয়ে নাসের বলেন, ‘আমার সত্যিই ভালো লেগেছে যে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং নিজেদের  ক্রিকেটার ফিজের (মুস্তাফিজ) পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এই সঙ্কট কোত্থেকে শুরু হয়েছে তাও মনে রাখতে হবে। (মুস্তাফিজুর) রহমান কলকাতার হয়ে আইপিএল খেলছে বা সে স্কোয়াডে ছিল এবং ব্যাখ্যাতীতভাবে হুট করে বিসিসিআই বলল, বাংলাদেশ ও ভারতের চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকেই বিষয়টি এতদূর এলো। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে, এটাও ইতিবাচক। একসময় তো কাউকে বলতে হবে, রাজনীতি অনেক হলো, এবার কি আমরা আবার শুধু ক্রিকেটে ফিরতে পারি না?’

নাসেরের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কারণেই আইসিসি তাদের প্রতি নমনীয়। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সমর্থকরা বলতে পারেন, আমাদের টাকা আছে, তাই ক্ষমতা আছে। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করলে তাদের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলো এখন একতরফা হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ডাক দিলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ম্যাচ খেলতে নিয়ম মেনেই শ্রীলঙ্কায় যাবে ভারত দল। প্রতিপক্ষ মাঠে না এলেও অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো আনুষ্ঠানিকতা সারবে রোহিত শর্মার দল।