Image description

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ কার্যকর চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এই সম্ভাব্য অবসান বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে দিচ্ছে। এর ফলে এক অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক পরমাণু প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অবসান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে। একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শর্তসাপেক্ষে চুক্তির বিধিনিষেধ আরও এক বছর মেনে চলার আগ্রহ দেখালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেননি। এই অনিশ্চয়তার মাঝে চীনের ক্রমবর্ধমান পরমাণু সক্ষমতা নতুন এক ‘ত্রিমুখী’ অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গেল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ পন্থিরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল বলেন, চুক্তির মেয়াদ ধরে রাখার বিষয়ে সমঝোতায় ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় পক্ষকে আরও বেশি অস্ত্র মোতায়েনের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারে। তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে প্রায় ৩৫ বছর পর প্রথমবারের মতো দুপক্ষই নিজেদের মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাবে।

‘এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নয়, চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করে একটি নিয়ন্ত্রণহীন ও বিপজ্জনক ত্রিমুখী অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও চীনও তার প্রাণঘাতী পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে।’

র‌্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিংস্টন রেইফ এক অনলাইন আলোচনায় এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘চুক্তির অনুমানযোগ্যতা না থাকলে প্রতিটি পক্ষই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত হতে পারে কিংবা শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের জন্য তাদের মোতায়েন করা অস্ত্র সংখ্যা বাড়াতে পারে, আবার আলোচনায় বাড়তি সুবিধা আদায়ের চেষ্টাও করতে পারে।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো তার নিরাপত্তা স্বার্থে ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। তবে ২০২৪ সালে তিনি একটি সংশোধিত পারমাণবিক নীতিতে সই করেন, যার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা আরও কমানো হয়।

নিউ স্টার্ট চুক্তির মূল বিষয়াবলি

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নিউ স্টার্ট চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সর্বোচ্চ ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। চুক্তিটির মূল মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে; তবে সে সময় এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপকভাবে সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুতিন এই পরিদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পরিদর্শকদের রাশিয়ার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে ক্রেমলিন এও জানায়, তারা পুরোপুরি চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে না এবং চুক্তি মোতাবেক পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ধারিত সীমা মেনেই চলবে তারা।

গত সেপ্টেম্বরে নিউ স্টার্টের সীমা আরও এক বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে পুতিন বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারকে উসকে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিটির প্রধান আলোচক ও ন্যাটোর সাবেক উপ-মহাসচিব রোজ গোটেমোলার বলেন, চুক্তির মেয়াদ বাড়ালে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। গত মাসে এক অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, ‘নিউ স্টার্টের মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ালে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না।’

আগের পারমাণবিক চুক্তিসমূহ

নিউ স্টার্টের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তি হয়। এর সূচনা হয় ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত সল্ট-১  চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও সোভিয়েত নেতা লিওনিদ ব্রেজনেভ প্রথমবারের মতো অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর সীমা আরোপের উদ্যোগ নেন।

এরপর ১৯৭২ সালের অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল চুক্তি (এবিএম) দেশ দুটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত করেছিল। তবে ২০০১ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ মস্কোর সতর্কতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। রাশিয়া বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল গঠনের প্রচেষ্টাকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং দাবি করে আসছে যে এতে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জবাবে পুতিন ‘বুরেভেস্তনিক’ নামে পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ও পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘পোসেইডন’ নামে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ও পারমাণবিক শক্তিচালিত পানির নিচের ড্রোন বানানোর নির্দেশ দেন। রাশিয়া জানিয়েছে, গত বছর তারা এ দুটি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে এবং মোতায়েনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

এছাড়া ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তিও ২০১৯ সালে বাতিল হয়। ওই চুক্তিতে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশেষভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী মনে করা হতো, কারণ লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এর সময় অনেক কম লাগত। ফলে প্রতিরক্ষার্থে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় পাওয়া যেত। আবার ভুল সতর্কতার ফলে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ারও আশঙ্কা ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বর এবং তারপর এ বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের ওপর নতুন ওরেশনিক মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচলিত সংস্করণ ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা সর্বোচ্চ ৫ হাজার কিলোমিটার যা পারমাণবিক অথবা প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করে ইউরোপের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প ও উদ্বেগ

পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য ঘোষণা রাশিয়া ও চীনকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং অন্য দেশকেও এর অনুসরণে প্রলুব্ধ করবে।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশে গোল্ডেন ডোম প্রকল্প বাস্তবায়নের আদেশ দেন ট্রাম্প। এরপর ২৫ মে ওভাল অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেমের ঘোষণা ও পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করেন, যেখানে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে তিন বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানানো হয়।

‘গোল্ডেন ডোম’ এমন একটি প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে দূরপাল্লার বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। এর কাঠামোতে উন্নত রাডার, সেন্সর নেটওয়ার্ক ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, যা আঘাত হানতে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।

এই সিস্টেম শুধু প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করেই থামবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বাড়াবে। কারণ এটি প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা ও ক্ষমতা সীমিত করার মতো সক্ষমতা রাখবে।

এ বিষয়ে নিউ স্টার্ট চুক্তিতে সইকারী, বর্তমানে পুতিনের নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সীমিত করার কোনো চুক্তি না থাকলে ‘আমাদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন হুমকি দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা না শোনা হলে, সমতা ফিরিয়ে আনতে আমরা আনুপাতিকভাবে পদক্ষেপ নেব।’

কোন দিকে যাচ্ছে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র কূটনীতি

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ‘সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন মেদভেদেভ। তার মতে, আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশলগত অস্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা রাশিয়া ও চীন উভয় দেশকে উদ্বিগ্ন করেছে বলে মত কিমবলেরও। তার ভাষ্য, ‘তারা সম্ভবত গোল্ডেন ডোমের জবাবে তাদের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াবে, যাতে তারা (যুক্তরাষ্ট্রের) প্রতিরোধব্যবস্থা ভেদ করে পাল্টা পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।’ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার তুলনায় হামলার সক্ষমতা দ্রুত ও কম খরচে গড়ে তোলা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়াও ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্প গত অক্টোবরে যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতেও ক্রেমলিনের উদ্বেগ প্রকাশ পায়।

রাশিয়া সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার আগে ১৯৯০ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিষয়ে পুতিন বলেছেন, যদিও উভয় দেশ একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে সই করেছে যা এসব পরীক্ষা নিষিদ্ধ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়াও একইভাবে জবাব দেবে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট গত নভেম্বরে বলেছিলেন, এ ধরনের পরীক্ষায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। তবে কিমবলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় এই পরীক্ষা শুরুর পদক্ষেপ ‘পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে বিদ্যমান বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি বিশাল ফাটল সৃষ্টি করবে’। এতে রাশিয়াও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে এবং চীন ও ভারতসহ অন্য দেশগুলোও তা অনুসরণে প্রলুব্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুত কৌশলগত প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব যেখানে পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে আরও বেশি ব্যয় এবং ক্রমেই অস্থিতিশীল সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

এই পারমাণবিক অস্ত্র কূটনীতিকের মতে, ‘এটি বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার একটি ভয়াবহ বিপজ্জনক পর্বে প্রবেশের সম্ভাব্য মোড়চিহ্ন। এমন পরিস্থিতি আমরা আমাদের জীবদ্দশায় এর আগে দেখিনি।’

নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ট্রাম্পের গোল্ডেন ডোম পরিকল্পনার মতো নতুন পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক পারমাণবিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, তা হবে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।