বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বেদনার কথা প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। ফুটবল বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনকে মানবিক বার্তায় রূপ দিয়ে তিনি বলেন, নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও দুর্দশা তাকে গভীর বেদনাহত করছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি গার্দিওলা। কারণ, নিজের শহর বার্সেলোনায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি শিশুদের সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়েছিলেন। এর ফলে তিনি সময়মতো ইংল্যান্ডে ফিরতে পারেননি। পরে নিউক্যাসলের বিপক্ষে লিগ কাপ ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সামনে তিনি মানবিক আবেদন তুলে ধরেন।
গার্দিওলা বলেন, ‘মানব ইতিহাসে কখনো এত স্পষ্টভাবে আমরা তথ্য ও ছবি সামনে পাইনি। ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, ইউক্রেনে যা হয়েছে, রাশিয়া, সুদানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ- সবকিছু আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। এসব দেখে কেউ কি প্রভাবিত না হয়ে থাকতে পারে? এখানে ডান-বাম রাজনীতি বা কে ঠিক কে ভুল, তা মূল বিষয় নয়। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে- এটাই আমাকে কষ্ট দেয়। বিষয়টি এত জটিল নয়। মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা আমাকে আঘাত করে।’
মানবজীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে গার্দিওলা বলেন, ‘মানুষ ও মানবজীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। মানুষ যখন যুদ্ধের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, সমুদ্রে বিপদে পড়ে, তখন আগে তাকে বাঁচাতে হবে। সে ঠিক না ভুল- এই প্রশ্ন পরে আসবে। মানুষ মারা গেলে সাহায্য করতেই হবে। পরে আমরা সমালোচনা বা মতবিরোধ করতে পারি, কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে মানবিক দায়িত্বটাই প্রধান।’
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায়ও মন্তব্য করেন গার্দিওলা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এমন ঘটনা অন্য কোনো দেশে ঘটত, তাহলে মানুষ কীভাবে তা সমর্থন করত? কোনো মতাদর্শ রক্ষার জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা মানবতার পরিপন্থী। আমি সবসময় নিরীহ মানুষের পক্ষে দাঁড়াব। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে হবে। নাহলে সবকিছু একসময় শেষ হয়ে যাবে।’