ভারত ওপেন ব্যাডমিন্টনের নতুন ভেন্যুর পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খেলোয়াড়েরা। ডেনমার্কের বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ২০ নম্বরে থাকা মিয়া ব্লিখফেল্ট নতুন আইজি স্টেডিয়ামের পরিস্থিতিকে ‘অস্বাস্থ্যকর ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
চলমান ‘ইন্ডিয়া ওপেন সুপার ৭৫০’ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর ব্লিখফেল্ট বলেন, ভেন্যু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। তবে বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ব্লিখফেল্ট বলেন,
‘আমি সত্যিই আশা করেছিলাম নতুন হলটি আগের চেয়ে ভালো হবে। কিন্তু এখনো জায়গাটি খুব নোংরা এবং খেলোয়াড়দের জন্য অস্বাস্থ্যকর।’
তিনি জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে খেলোয়াড়দের একাধিক স্তরের গরম পোশাক পরে ওয়ার্ম-আপ করতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়,
‘সবাইকে দুই স্তরের প্যান্ট, জ্যাকেট, গ্লাভস আর টুপি পরে গরম হতে হচ্ছে। দ্রুত গতির খেলায় নামার আগে এটি মোটেও আদর্শ প্রস্তুতি নয়।’
গত বছর কেডি যাদব হলের পরিস্থিতি নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ করে ব্লিখফেল্ট বলেন,
‘সত্যি বলতে গেলে কোনো উন্নতিই হয়নি।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওয়ার্ম-আপ কোর্টে পাখি উড়ছে, সেখানে মলত্যাগও করছে। এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং মোটেও স্বাভাবিক নয়।’
এই পরিস্থিতিতে আয়োজক এবং ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনকে (বিডব্লিউএফ) হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান ব্লিখফেল্ট। বলেন,
‘এটা একটি পেশাদার খেলা। এ ধরনের পরিবেশে অনেক ক্রীড়াবিদ খেলতেই চাইবেন না।’
বিশেষ করে চলতি বছর এই ভেন্যুতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের কথা থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কানাডার শীর্ষ শাটলার মিশেল লিও নতুন স্টেডিয়ামের ঠান্ডা পরিবেশ নিয়ে বলেন,
‘ভেন্যুটি বেশ ঠান্ডা। এখানে ওয়ার্ম-আপ করা কঠিন।’
তিনি জানান, স্টেডিয়াম বড় হওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বেশি এবং আগের ভেন্যুর তুলনায় ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাচানক ইন্তাননও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
‘কোর্টে নামার আগে শরীর ভালোভাবে গরম রাখা দরকার। কিন্তু এখানে এখনো খুব ঠান্ডা।’
প্রয়োজনে হিটার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক অভিযোগের পরও ভেন্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।