
সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ম্যাচে যখন খেলতে নামবেন তখনই দুঃসংবাদটা পেলেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন অসুস্থ তার মা। তবে মায়ের অসুস্থতা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারেনি।
ভুটানের মাটিতে বাংলাদেশের জয়ে নেতৃত্ব দিলেন সৌরভী।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছেন সৌরভী ৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ভুটানে যখন মাঠ মাতান তখন দেশে তার মা-বাবা অসুস্থ।
আজ রবিবার খেলা শেষে সন্ধ্যায় এই প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় ভুটান থেকে সৌরভী বলেছেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মায়েরও শরীর খারাপ। আমি যখন মাঠে নামব ওই সময় গ্রাম থেকে বড় ভাই মাকে নিয়ে জেলা শহর ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়েছেন। খেলা শেষ হলে জানতে পারি মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।
সৌরভী আরো বলেছেন, ‘আজ ফজরের নামাজের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম দেশের জন্য ভালো কিছু করতে। আর মাঠে নেমে তা করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। কিন্তু আফসোস রয়ে গেল। ভুটানের সাথে খেলাটায় জিততে পারলে আজ হয়তো অন্য রকম উচ্ছ্বাস করতে পারতাম। তবু তো দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ।’
সৌরভীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়ো গ্রামে। ওই গ্রামের আবুল কালাম আকন্দ ও মনোয়ারা আক্তারের মেয়ে তিনি। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। তিনি পরিবারের সবার ছোট। বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা সদরের অবস্থিত পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি শিক্ষার্থী। তিনি নান্দাইল উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের নারী ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদিকা। দেশের বাইরে তাঁর এই সাফল্যে নিজ গ্রাম ছাড়াও নান্দাইলের সব স্তরের মানুষের মাঝে তিনি এখন আলোচনার বিষয়।
২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে করেন ডাবল হ্যাটট্রিকসহ ৯ গোল এবং ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে করেন সাত গোল। সেই চ্যম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। হয়েছিলেন সেরা খেলোয়াড়ও। এরপর আর পেছনে থাকাতে হয়নি। যতবার দেশের বাইরে গেছেন ততবারেই গোল পেয়েছেন। এবার ভুটানে সেই ধারাবাহিকতা রেখে তিন ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন।