Image description

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ঘরে ঘরে কান্না স্বজনদের। প্রতিদিন সকাল-বিকাল নাফ নদের পাড়ে জড়ো হচ্ছে শত শত নারী-পুরুষ-শিশু। কারও স্বামী, কারও সন্তান বা ভাই নেই ঘরে। ১৯টি ট্রলারসহ ৫৬ জন বাংলাদেশি জেলে এখনো মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে বন্দি।

জেলে সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, নাফ নদে মাছ ধরতে গেলেই অস্ত্রের মুখে অপহৃত হচ্ছেন জেলেরা। এতে সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে বিজিবি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নাফ নদের মোহনায় নতুন ডুবোচর তৈরি হওয়ায় জেলেরা ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। তখন আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আরাকান আর্মি সীমান্তে নন-ফ্যাক্টর হলেও বিজিবির সঙ্গে আন-অফিশিয়াল যোগাযোগ রয়েছে। জেলেদের ফেরাতে চেষ্টা চলছে। তবে জেলেদের পরিবার ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, আশ্বাস ছাড়া কোনো অগ্রগতি নেই। ট্রলার মালিক আবদুল রহিম বলেন, ‘নৌকায় উঠলেই বুক কাঁপে। আমরা জানি, আর নাও ফিরতে পারি। কিন্তু পরিবার আছে, তাই জীবনবাজি রেখেই সমুদ্রে যেতে হয়।’ অপহৃত হয়ে ফিরে আসা জেলেরা জানান, মুক্তিপণ আদায় ও খাদ্যপণ্য জোগাড়ের জন্যই আরাকান আর্মি এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।

জেটিঘাট বোট মালিক সমিতির হিসাবে, ৫ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৯টি ট্রলারসহ ৫৬ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিনের কাছে আরও পাঁচ জেলে অপহৃত হন। এ ঘটনায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয়রা। টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন জানান, প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং জেলেদের ফেরাতে যোগাযোগ চলছে। এদিকে কোস্টগার্ড দাবি করেছে, মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে গত শুক্রবার টেকনাফ উপকূল থেকে ১৯টি ট্রলারসহ ১২২ মাঝিমাল্লাকে আটক করে ফেরত আনা হয়েছে। তবে আটক জেলেরা বলছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করেননি; ফেরার পথে অন্যায়ভাবে ধরা হয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘আরাকান আর্মির দাপট শুধু জেলেদের নয়, পুরো সীমান্তের নিরাপত্তার জন্যই বড় হুমকি।’