Image description
ব্যবহার করা যাবে না প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম গ্লাস

অবশেষে ভ্রমণপিপাসুদের সুন্দরবন ঘুরে দেখার অপেক্ষার অবসান হলো। তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য আজ খুলছে সুন্দরবন ঘুরে দেখার দুয়ার। তবে এবার পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘোরাঘুরির সময় ব্যবহার করা যাবে না প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম গ্লাস। এদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্বাসমূলীয় সুন্দরবনে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। টানা বৃষ্টিতে এরই মধ্যে সবুজের সমারোহে মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই ম্যানগ্রোভ বনভূমি। তবে জোয়ার-ভাটায় ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায় সুন্দরবন। পানিতে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ, হরিণ, বানর, সাপ ঘনসবুজে রহস্যের হাতছানি- ভয় ও রোমাঞ্চের ঢেউ জাগে হৃদয়ে।

জানা যায়, সুন্দরবনে রয়েছে ৪৫০টি নদী-খাল। এতে রয়েছে লোনা পানির কুমির, অজগর, কচ্ছপ, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ নানা প্রজাতির মৎস্য প্রাণী। রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, মায়া হরিণ, বানর, কাঠবিড়ালিসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ৩০০ প্রজাতির পাখি। বনে রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গড়ান গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, প্রকৃতিগতভাবে সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতে জুন, জুলাই, আগস্ট তিন মাস বনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময় বনের মধ্যে সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। যেন বন নিজের মতো করে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে ট্যুরিস্টরা এখন থেকে বনে প্রবেশ করতে পারবেন। ট্যুরিস্ট স্পটগুলো এরই মধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশে নতুন করে পাস পারমিট দেওয়া হয়েছে। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম ডেভিড বলেন, খুলনা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭০টিরও বেশি জাহাজ ট্যুরিস্টদের জন্য প্রস্তুত আছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন। পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ট্যুরিস্টদের এক দিনের ভ্রমণের জন্য খুলনা রেঞ্জে কালাবগি, শেখেরটেক ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে কলাগাছিয়া, দোবেকি ট্যুরিস্ট পয়েন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তিন দিনের ট্যুরের জন্য হলদেবুনিয়া যেতে পারবেন। এখানকার সব ওয়াচ টাওয়ার পরিষ্কার করা হয়েছে। পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য পরিচ্ছন্ন ওয়াশ রুম ও মিষ্টি পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাছের পরিচিতির জন্য সাইন্টিফিক নেম দেওয়া হয়েছে। কী করণীয় কী বর্জনীয় সাইনবোর্ড দেওয়া আছে।