Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা বি এম ফাহমিদা আলম গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমনকি তিনি ৩০ জুলাই ‘মেট্রোরেলের ভাঙা কাচের’ ছবিও তার ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেছিলেন।

 

এস এম ফরহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি। তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ডাকসু নির্বাচনে বামজোট মনোনীত ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী।

 

তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলন নিয়ে কোনো পোস্ট বা কোনোকিছু লেখেননি। শুধু ৩০ জুন তিনি একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন৷ সেখানেও তিনি ভাঙা কাচের ছবি শেয়ার করেছিলেন। অনেকে বলছেন, স্বৈরাচারী হাসিনা যেমন মেট্রোরেল নিয়ে মায়াকান্না করেছিল, তেমনি তিনিও মেট্রোরেলের ভাঙা কাচের ছবি শেয়ার করে মানুষের বদলে মেট্রোরেল নিয়ে মায়াকান্না করেছেন।

 

ফাহমিদা আলমের সঙ্গে পরিচয় আছে এমন কয়েকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পুরোটা সময় নীরব ছিলেন। ফেসবুকে যেমন নীরব ছিলেন, তেমনি তিনি কোনো আন্দোলনেও সেসময় অংশগ্রহণ করেননি।

 

তার ফেসবুক প্রোফাইলে ৮ আগস্টের একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে তিনি লিখেন, “কোনো টিভি চ্যানেল আমাদের ‘ন্যাশনাল হিরো’-দের প্রশ্ন করেন, তাদের প্রিয় লেখক কারা? পার্টিকুলারলি, অভিজিৎ রায় এবং হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে তাদের অভিমত কী।”

 

এদিকে ডাকসু নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার দিনই চারুকলা অনুষদে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যানার যখন ভেঙে ফেলা হয় এবং প্রার্থীদের ছবি বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের ছবি বিকৃত করা হয় তখনও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। বরং ব্যানার ভেঙে ফেলা ও ছবি বিকৃত করাতে উল্লাস করেছেন। সেসময়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি এ বিষয়ে দুটি পোস্ট করেন। একটিতে তিনি লিখেন, ‘চারুকলায় হবে না মৌলবাদের ঠিকানা’। আরেকটিতে তিনি লিখেন, ‘চারুকলা সেরা’।

ফাহমিদা আলমের এমন ফেসবুক পোস্টগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আহনাফ তাহমীদ নামে একজন লিখেছেন, ‘ডাকসুর আরেক লড়াকু নেত্রী বি এম ফাহমিদা। যিনি মুক্তিযোদ্ধা ও গণআন্দোলন পদে লড়াই করবেন। তিনি গত বছর জুলাইয়ে যখন আমার ভাই-বোন রাস্তায় মইরা যাইতেছিল, তখন মেট্রোরেল আর বিটিভির ভাঙা কাচের টুকরো প্রোফাইল ফটো দিয়েছিলেন। সরি এভাবে সবার লেঞ্জা ধরে টান দেওয়া ঠিক হচ্ছে কি না জানি না। কিন্তু ওইযে কথা দিছিলাম সবার মুখোশ ধইরা টান দিব। তারা মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করবে কিন্তু চোখের সামনে জুলাই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেবে না।’

 

মুনতাসির তামিম নামে একজন লেখেন, ‘এই মেয়েটাই ফরহাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে রিট করছে আজকে। নিজে হচ্ছে কট্টর লীগার, কিন্তু ট্যাগ দিচ্ছে ফরহাদ ভাইকে।’