২ নম্বর দলের সঙ্গে ৪১ নম্বর দলের ম্যাচ এমন হাড্ডাহাড্ডি হবে, সেটা কজনই বা কল্পনা করতে পেরেছিলেন! এখানে ভারত-জাপান ম্যাচের সম্পর্কে যে বলা হচ্ছে, সেটা হয়তো অনেকে আন্দাজ করতে পেরেছেন। কার অবস্থান দ্বিতীয়, কে ৪১ নম্বরে সেটাও বুঝে ফেলার কথা। এই পুঁচকে জাপানকে হারাতেই ভারতের ঘাম ছুটে গিয়েছে। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত পায় ২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়।
সানোতে আজ টি-টোয়েন্টি দিয়েই ভারত-জাপান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয় কি না, জাপানের বৈরি আবহাওয়ায় সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর খেলা হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে।
ভারত-জাপান পাঁচ ওভারের ম্যাচের সব রোমাঞ্চ যেন জমা ছিল শেষ ওভারের জন্যই। পঞ্চম ওভারের প্রথম বল ডট দিয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নেন জাপানের মিডল অর্ডার ব্যাটার বেঞ্জামিন ইতো ডেভিস। তৃতীয় বল ওয়াইড দেন প্যাটেল। ভারতীয় বাঁহাতি স্পিনার ফের ওয়াইড দেন। কিন্তু শুরুতে ওয়াইডের সংকেত দিয়ে পরে সেটা তুলে নেন আম্পায়ার। এক পর্যায়ে এক বলে ৪ রানের সমীকরণের সামনে পড়ে জাপান। শেষ বলে জাপানি উইকেটরক্ষক ব্যাটার শিরাই পাতমোর স্লগ করলেও কেবল এক রান নিতে পেরেছেন তিনি। ভারতও যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।
৫ ওভারে ৩৩ রানের লক্ষ্য আহামরি কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ভারতের চেয়ে শক্তিতে যোজন-যোজন পিছিয়ে থাকা জাপানের ইনিংস শুরুর আগেও সহজ বলার উপায় ছিল না। ১.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৭ রানে পরিণত হয় জাপান। যার মধ্যে ওপেনার লাচলান ইয়ামোতো লেক (১) হয়েছেন রানআউট। আর ওয়াশিংটন সুন্দর নিয়েছেন ইব্রাহিম তাকাশির উইকেট। জাপানি এই টপ অর্ডার ব্যাটার ৩ বলে এক চারে করেন ৪ রান।
রবি বিষ্ণুই যখন তৃতীয় ওভার করতে আসেন, সেই ওভার থেকে জাপান নেয় ১০ রান। যাঁর মধ্যে জাপানি অধিনায়ক কেন্দেল কাদাওয়াকি ফ্লেমিং একটা চারও মারেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে যখন ফ্লেমিং (১২) আউট হন, তখন জাপানের স্কোর ৪ ওভারে ২৫ রান ৩ উইকেট। এই উইকেটটিও নিয়েছেন ওয়াশিংটন। হাতে ৭ উইকেট থাকা সত্ত্বেও এক ওভারে ৮ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি জাপান।
বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল জাপান-ভারত টি-টোয়েন্টি। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়ায় দফায় দফায় মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হয়। বেলা ১টা ৫ মিনিটে খেলা শুরু হলে ৫ ওভারে নিয়ে আসা হয়। ভারত আগে ব্যাটিং নিয়ে ৫ ওভারে ৪ উইকেটে করে ৩২ রান। সর্বোচ্চ ১৬ রান করা আইয়ার হয়েছেন ম্যাচসেরা। ১২ বলের ইনিংসে কেবল এক চার মারেন তিনি।