Image description

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের বেহাল দশা ও দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে স্টেডিয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শফি কামাল স্বপ্নিলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একইসঙ্গে স্টেডিয়াম এলাকায় স্পোর্টসের নামে বরাদ্দ নেওয়া দোকানগুলোতে অটোরিকশার গ্যারেজ গড়ে তোলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদ্যুৎ অপচয়ের অভিযোগে সব দোকানের চুক্তি বাতিলের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

রবিবার (৯ আগস্ট) কমলাপুর স্টেডিয়ামে ঝটিকা সফরে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়ম দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ সময়ে​স্টেডিয়ামটির সার্বিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল বিস্তারিত পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার, মেরামত ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি স্টেডিয়ামটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথাও তিনি নিশ্চিত করেন।

পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘গত দু'মাস আগে আমি এখানে এসেছিলাম। তখন ছাদে ২০টি অবৈধ স্থাপনা ছিল, যা এতদিনে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসকের কাজের অবহেলার কারণেই এই দুই মাসে কিছুই হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

স্টেডিয়ামের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, ওয়াশরুম এবং মিডিয়া বক্সের অবস্থা যাচ্ছেতাই। সিঁড়ির নিচে যে পরিমাণ ময়লা পড়ে আছে, তা একটি স্টেডিয়ামের জন্য কখনোই মানানসই নয়।’

স্টেডিয়ামের বাইরের দোকানগুলো উচ্ছেদের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্পোর্টস রিলেটেড ব্যবসার কথা বলে দোকান বরাদ্দ নিয়ে সেখানে অটোরিকশার ব্যবসা চলছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় করা হচ্ছে। যেখানে সারা দেশ লোডশেডিংয়ে ভুগছে, সেখানে তারা ব্যবসার খাতিরে অঝোরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, স্টেডিয়াম এলাকার যতগুলো দোকান রয়েছে, সেগুলোর সকল চুক্তি বাতিল করা হবে।’