বোটক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলায় আদালতে হাজির হয়ে মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মামলাটি চলায় বারবার আদালতে হাজির হওয়াকে ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও চাপের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এই অভিনেত্রী।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে মামলাটিতে পরীমনির জেরার দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের পর আদালতে পৌঁছানোর কারণে এদিন তার জেরা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে আদালত আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি। এ সময় মামলার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, 'ঘটনার কথা মনে পড়লেই আমাকে মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যখন এই ডেটগুলো পড়ে, আবার সেই ঘটনাগুলো রিকল করা—এগুলো একপ্রকার মেন্টাল টর্চার বলতে গেলে।'
মামলাটির বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'রায়টা যত তাড়াতাড়ি হোক, সেটাই আমি চাই। কারণ আমার জন্য অনেক হ্যাসেল এগুলো। আদালতে পাঁচটা বছর তো হয়ে গেল। আমি আর চাই না এই হ্যাসেলটা। বিশ্বাস করেন, যার সঙ্গে ঘটে সে আসলে জানে কিসের মধ্যে দিয়ে যায়।'
নিয়মিত আদালতে হাজিরার কারণে সন্তানদের সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য বিষয় সামলাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান পরীমনি। তিনি বলেন, 'তাড়াতাড়ি আসলে জেরাটা শেষ হয়ে যাক। কারণ এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের নিয়ে সময় দেওয়া, তারপর সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতে আসা প্রেসার হয়ে যায়।'
তবে দীর্ঘ সময় ধরে মামলার প্রক্রিয়া চললেও আইনের প্রতি আস্থা রয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, 'আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই এই পাঁচটা বছর ধরে অপেক্ষায় আছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জেরা শেষ হোক। একটা সুন্দর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের দেওয়া হোক। আমি খুবই দোয়া করি আল্লাহর কাছে, এটা খুবই তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।'
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি। মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল।
পরে মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন। এরপর থেকে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।