ম্যানচেস্টার সিটিতে সাফল্যের সঙ্গে ১০ বছর কাটিয়েছেন। গত মে মাসে কোচিং থেকে বিদায় নিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। এবার স্প্যানিশ এই কোচকে নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জোভান্নি মালাগো নিশ্চিত করেছেন, ইতালির জাতীয় দলের পরবর্তী প্রধান কোচ হওয়ার ব্যাপারে এই ৫৫ বছর বয়সি স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
গত এপ্রিলে জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করার পর থেকে ইতালির কোচের পদটি ফাঁকা রয়েছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই ইতালীয় ফুটবলে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে গার্দিওলার মতো বিশ্বসেরা কোচকে দলের দায়িত্বে আনতে চায় চারবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মালাগো ইঙ্গিত দিয়েছেন, গার্দিওলার মতো একজন হাইপ্রোফাইল ম্যানেজারকে আনতে ফেডারেশন তাদের স্বাভাবিক আর্থিক সীমার বাইরে গিয়ে বিশেষ ছাড় দিতেও প্রস্তুত। তবে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গার্দিওলা ছাড়াও ইতালির এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে ২০২০ সালের ইউরো জয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি এবং সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোকে। ইতালির ফুটবল ইতিহাসে আজ পর্যন্ত মাত্র দুজন বিদেশি কোচ (১৯৫০-এর দশকে লাজোস জিজলার এবং ১৯৬০-এর দশকে হেলেনিও হেরেরা) দায়িত্ব সামলেছেন। গার্দিওলা চুক্তি স্বাক্ষর করলে তিনি হবেন এ তালিকার তৃতীয় বিদেশি কোচ।
যদিও গার্দিওলা ইতালিতে এর আগে কখনো কোচিং করাননি, তবে ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ব্রেশিয়া ও রোমার হয়ে সিরি আ-তে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার এবং তিনি সাবলীলভাবে ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ট্রফি-সমৃদ্ধ স্মৃতির ঝুলি নিয়ে দীর্ঘ ক্লান্তি কাটিয়ে গার্দিওলা কি ইতালির ডাগআউটে ফিরবেন—এখন সেটাই দেখার বিষয়।