ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টাকে সবসময়ই সমর্থন করে এসেছে চীন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত চীন। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে ছায়া যুদ্ধ (Proxy War) বন্ধ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্টার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
বুধবার (২২ জুলাই) ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (IRNA)-তে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় এসব মন্তব্য করেন তেহরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কং পেইউ। ইরান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর এবং দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব ঘোষণার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তিনি এ বার্তা দেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে একাধিক গুরুতর সংকটের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে চীন শান্তি, সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি দেওয়া এক ভাষণে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কং পেইউ বলেন, এসব নীতিই বর্তমান সংকট সমাধানে কার্যকর পথ দেখাতে পারে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহাসিক বেইজিং ঘোষণা স্বাক্ষরে চীনের মধ্যস্থতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শান্তি ও সংলাপের আহ্বান—এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে চীন পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অঞ্চলটিকে যুদ্ধের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ইরানের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সবসময় ন্যায়সঙ্গত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। বেইজিং একতরফা আগ্রাসন, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ও চাপের বিরোধিতা করে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
কং পেইউ ইরানের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় দেশ ও অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও দাবি করেন, আত্মনির্ভরতা, ধারাবাহিক সংগ্রাম এবং উন্নয়নমুখী নীতির মাধ্যমে চীন বিশ্ব উন্নয়নের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একই সঙ্গে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে চীন।
বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আধুনিকায়ন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও বৈশ্বিক উন্নয়নেও অবদান রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।