Image description

টান টান উত্তেজনায় ভরা রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে উন্মাদনার সব ধরনের রেণুই ছড়িয়ে পড়ল ফুটবল দুনিয়ায়। গোলের দেখাই যেন পাচ্ছিল না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে নাটকীয়তা শেষে শেষ হাসল আর্জেন্টিনাই। অবশ্য অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। পরে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। শেষে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ইংলিশদের বিদায় করে ফাইনালে নাম লিখিছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর, ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। টমাস টুখেলের শিষ্যরা ম্যাচের সিংহভাগ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং রক্ষণভাগে শক্ত দেয়াল গড়ে তুলেছিল। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে লিড ধরে রেখে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল ইংলিশ সমর্থকরা।

খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে রক্ষণভাগ আরও মজবুত করতে ইংল্যান্ড কোচ ৫ জনের ডিফেন্স লাইনে চলে যান। এই অতি-রক্ষনাত্মক কৌশলই মূলত কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। আক্রমণের সমস্ত চাপ আছড়ে পড়ে ইংলিশ সীমানায় এবং আর্জেন্টিনা অল-আউট আক্রমণে যায়।

ধারাবাহিক আক্রমণের ফল পেতে বেশি দেরি হয়নি আর্জেন্টিনার। ৮৫তম মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো স্টেডিয়াম তখন আলবিসেলেস্তেদের নীল-সাদা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে নাটকীয়তার তখনও বড় অংশ বাকি ছিল।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে কিংবদন্তি লিওনেল মেসির চোখ ধাঁধানো এক ক্রসে লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজ। এই এক গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালের টিকিট।

এই হারের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন আরও একবার যোগ করা সময়ের ট্র্যাজেডিতে চুরমার হয়ে গেল। বাড়ল তাদের অপেক্ষা। অন্যদিকে, আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বের কোটি চোখ এখন সেদিনের সেই মহারণের দিকে।