এস্তাদিও আজতেকা। মেক্সিকো সিটির এ স্টেডিয়ামকে ‘বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম’ বলতে ভুল হবে না। ফুটবল মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজকের রেকর্ড মেক্সিকোর এ স্টেডিয়ামটির। বিশ্বকাপ উদ্বোধনের জন্য এর চেয়ে ভালো ভেন্যু আর কী হতে পারে! ২০২৬ সালে ৪৮ দলের অভূতপূর্ব ফুটবল লড়াইয়ের পর্দা উঠল এখানেই।
উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বমঞ্চে দেখা হলো দল দুটির। মজার ব্যাপার হলো, ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। সেবার আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ হলো অপেক্ষা। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর ঘণ্টা বাজল বিশ্বকাপের। মেক্সিকান সংস্কৃতি, ফুটবলের জয়গান ও সুরের মূর্ছনায় স্বাগত জানানো হলো ফুটবল মহাযজ্ঞকে। এবার রাতের নিস্তব্ধতায় নয়, দিনের কোলাহলে রঙিন ধোঁয়ায় বিশ্বকে মুগ্ধ করল স্তাদিও আজতেকা।
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার উদ্বোধনী আয়োজনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শাকিরা। কলম্বিয়ান পপতারকা তার সুরের জাদু ও আবেদনে মুগ্ধতা ছড়ালেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ গেয়ে ঢেউ তুললেন বিশ্বকাপ উত্তেজনার। যে ঢেউ মেক্সিকো সিটি থেকে ছড়িয়ে পড়ল গোটা ফুটবল দুনিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের জানান দিল, ৩৮ দিন আবেগের সাগরে ভেসে যাওয়ার পালা।
ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক বেশ পুরনো। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালেও বিশ্বকাপ নিয়ে গান ছিল তারা। মাঝে বিরতি পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপ দিয়ে আবার ফিরলেন বিশ্বকাপ উদ্বোধনীতে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বড় চমক ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি বেরিয়ে আসার দৃশ্য। মাটি ফুঁড়ে একটি বিশাল ট্রফি বেরিয়ে আসে, সেই সঙ্গে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্যশিল্পীরা তুলে ধরেন তাদের সংস্কৃতি। এরপরই গানের সুরের ছোঁয়ায় মুগ্ধতা শুরু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন ৮৪ হাজার দর্শক। মেক্সিকান শিল্পীরা পারফর্মের সময় তাদের ‘ওলে, ওলে, ওলে’ ও ‘ভিভা মেক্সিকো’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন জে বালভিন, আলেহান্দ্রো ফের্নান্দেস ও মানার মতো জনপ্রিয় তারকারা।
তবে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন শাকিরা। বার্না বয়ের সঙ্গে ‘দাই দাই’ গানের সঙ্গে তার নৃত্যের তালে তাল মিলিয়েছেন গ্যালারির দর্শকরা। কলম্বিয়ান পপতারকা পরেছিলেন হলুদ পোশাক। জন্মস্থান কলম্বিয়াকেই যেন প্রতিনিধিত্ব করলেন ফুটবল মহাযজ্ঞে।
শুরু হয়ে গেছে ৪৮ দলের ফুটবল মহাযজ্ঞ। প্রথমবার এত বড় পরিসরের বিশ্বকাপ। তিন দেশ একসঙ্গে আয়োজক হওয়ার ঘটনাও প্রথম। বোঝাই যাচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপ আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মনমাতানো পারফরম্যান্স হয়তো সেটিই প্রমাণ করে দিল।