দেশে তৈরি মোবাইল ফোনের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে কমতে পারে কলরেটও। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মন্ত্রী জানান, স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোবাইলের সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে তুলে নিয়েছে সরকার। এখন থেকে যে দামে সিম বিক্রি হবে তার উপর ১৫ শতাংশ কর আদায় করা হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এর ফলে এখন থেকে আরো কম মূল্যে সিম কেনা যাবে।
গতকাল বিকালে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ হার অনেক বেশি। তাই এ খাতের বিকাশে সরকার এ ধরনের ট্যাক্স ক্রমান্বয়ে যৌক্তিক হারে কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কর কমানোর উদ্যাগের অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি। তবে এই সিদ্ধান্তে বড় অঙ্কের রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর প্রত্যাহারের ফলে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সরকার আইসিটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে
চায়। এ লক্ষ্যে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘জাতীয় বাজেটে সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। সিম কর প্রত্যাহারের ফলে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনো সংযুক্ত নয়, এমন জনগোষ্ঠী ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে।’
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতকে জাতীয় থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে স্বীকৃতি এবং কিছু কর হ্রাসসহ এই খাতকে সহায়তায় সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই। এই পদক্ষেপগুলো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরো এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’
আগামী প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এ সেক্টর হতে পারে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি।
বছর বছর বাজেট নিয়ে হতাশায় থাকার ‘অভ্যাস’ হয়ে যাওয়া টেলিকম খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের এবার প্রাপ্তিযোগ আছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আদায় করা রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উেস কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে খাতের আর্থিক প্রবাহ সহজ হবে বলে নীতিনির্ধারকদের ধারণা। মোবাইল ফোন উত্পাদনে কাঁচামাল আমদানিতে কর ছাড়দেশীয় মোবাইল ফোন উত্পাদন শিল্পকে উত্সাহিত করতে মোবাইল হ্যান্ডসেট উত্পাদনে ব্যবহূত ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। টেলিকম খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগবাজেটে বক্তৃতায় বলা হয়েছে, সরকার এই খাতকে একটি ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তুলতে ট্যাক্স, ভ্যাট এবং লাইসেন্সিং নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।