Image description

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে দুই বিএনপি নেতার প্রকাশ্য মারামারির ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডিসি অফিসের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি ফুলের টব ভাঙচুরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মচারী আহত হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে বের হচ্ছিলেন। একই সময়ে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ডিসির কক্ষে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছান। মুখোমুখি হওয়ার পর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে ‘দালাল’ ও ‘বহিষ্কৃত’ বলে কটূক্তি করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং তাদের মধ্যে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে হাফেজ আজিজুল হক বারান্দায় রাখা একটি ফুলের টব তুলে তোফাজ্জল হোসেনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসকের বডিগার্ড পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেন এবং অন্যান্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী জনি (৩৭) আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাফেজ আজিজুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন উভয়েই জানান, তাদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “হঠাৎ এমন ঘটনার সূত্রপাত হওয়ায় আমিসহ উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছি। সরকারি দপ্তরে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবাধ যাতায়াত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ডিসি অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বেড়েছে।

অনেক সময় তাদের ভিড়ের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চলাচল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনেও সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার পর প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।