বাংলাদেশ নারী দল টি২০ বিশ্বকাপ খেলার জন্য ২৪ ও ২৬ মে দুই ভাগে দেশ ছাড়বে। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে প্রথমে স্কটল্যান্ড যাবে মেয়েরা। টুর্নামেন্ট শেষ করে আগামী ৫ জুন বিশ্বকাপ ভেন্যু ইংল্যান্ডে পৌঁছাতে পারে দল। এবারের টি২০ বিশ্বকাপে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক। বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি, সম্ভাবনা নিয়ে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী
সমকাল: বিশ্বকাপে কিছু একটা করে দেখাতে চান বলেছিলেন, এখনও কি সেই অবস্থানে আছেন?
জ্যোতি: বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টে অনেক প্রভাব বিস্তার করে খেলেছি আমরা। প্রতি ম্যাচে দেড়শ প্লাস রান করেছে মেয়েরা, যেটা অনেক বড় অর্জন ছিল। এই দলে বেশ কয়েকজন পারফরমার যোগ হয়েছে, যেটা আগে ছিল না। কয়েকজন খেলোয়াড় সত্যিকারে ম্যাচ উইনার হয়ে উঠেছে। যারা বিশ্বকাপে ম্যাচ জিততে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। প্রস্তুতির দিক থেকে বলব শ্রীলঙ্কা সিরিজটি চোখ খুলে দেওয়ার ব্যাপার ছিল; যেখানে আমাদের অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। আমরা অনেক কম্বিনেশন দেখার চেষ্টা করেছি।
সমকাল: ইংলিশ কন্ডিশনে সাহসী ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপ মাতাতে পারবেন?
জ্যোতি: আমি যেটা সব সময় খেলোয়াড়দের বলি, ভালো, খারাপ খেলা মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। ইতিবাচক না হলে নেপালের সঙ্গেও জিততে পারবেন না। খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের মানসিকতা থাকতে হবে। এই দলের ভেতরে যে আত্মবিশ্বাস দেখছি, যে মাইন্ডসেট তৈরি হয়েছে, এই মানসিকতা নিয়ে যদি খেলতে পারি প্রতিপক্ষ যেই আসুক, কন্ডিশন যাই হোক আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জিতব।
সমকাল: স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কতটা হবে?
জ্যোতি: আমার কাছে মনে হয় স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলা বিরাট সুযোগ নিজেদের প্রস্তুতির জন্য। বিগত সময়ে টি২০ বা ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার আগে প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট পাইনি। যেটা আক্ষেপ ছিল। এবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি সিরিজ খেলেছি। ত্রিদেশীয় সিরিজ ছাড়াও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে নামব। এবার প্রস্তুতি নিয়ে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার দারুণ একটা সুযোগ। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টটা জিতে বিশ্বকাপে যেতে পারলে খুব ভালো হবে।
সমকাল: বোলিং তো বরাবরই ভালো। এবারের ব্যাটিং ইউনিটটা কেমন?
জ্যোতি: এবার ব্যাটিং ইউনিটটা ভালো। এ কারণে ভালো বলছি, বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্ট, শ্রীলঙ্কা সিরিজে পাওয়ার প্লেতে রান হয়েছে। উইকেট পড়লেও ৩০ প্লাস, ৩৫ প্লাস রান হচ্ছে। যেটা টি২০তে প্রয়োজন। পাওয়ার প্লেতে যেন ৪০ প্লাস রান করা যায়। পাওয়ার প্লেতে মেরে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। মিডলঅর্ডারে ধরে খেলা এবং বাউন্ডারি মারার মতো খেলোয়াড়ও আছে। আমরা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো ক্রিকেট খেললে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপে ম্যাচ জিততে পারব। এক-দুটি ম্যাচ জেতার কথা ভাবছি, ভালো করলে জয়ের সংখ্যা বাড়বে। আমরা বিশ্বকাপের স্পটলাইটে থাকতে চাই।
সমকাল: পেস বোলার কি একজন কম হয়ে গেছে?
জ্যোতি: এক বছর ধরে যে তিন-চারজন পেস বোলারকে দলের সঙ্গে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের থেকে দুজনকে নেওয়া হয়েছে। এই দুজন পেস বোলার এখন অনেক বেশি পরিণত। আমরা আগে একটা করে পেসার খেলাতাম, একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খেলত। এখন দুজন পেসার খেলাতে পারি। কারণ তারা উন্নতি করেছে। আমাদের দায়িত্ব যারা দলে আছে, তাদের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য প্রস্তুত রাখা।
সমকাল: আপনি ভালো করলে দলের ভালো করার সম্ভাবনা বাড়ে। আপনি কতটা প্রস্তুত?
জ্যোতি: আমি ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি। ওখানে গিয়ে যে ম্যাচগুলো খেলব ত্রিদেশীয় সিরিজে, ওই ম্যাচগুলো আমার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। আমি বরাবর চেষ্টা করি পারফর্ম করার। আমার ব্যাটিং পরিসংখ্যান সেটাই বলে। মাঝে মধ্যে ফর্ম একটু ওপর-নিচ হয়। আশা করি, এই বিশ্বকাপটা ভালো যাবে।
সমকাল: আপনি দলকে কীভাবে আগলে রাখেন?
জ্যোতি: এটা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা পরিবার থেকে পেয়েছি। আমার পরিবার থেকে শিখেছি সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা। মারুফার প্রতি যে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার সুপ্তা আপুর সঙ্গেও সেভাবে কথা বলি। মারুফাকে মাঝে মধ্যে বকা দিতে হয়, সেটা মাঠেই হয়। মাঠের বাইরে সবার জন্য একই। ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাস আমরা একসঙ্গে থাকি। এ কারণে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধন তৈরি হয়েছে। এবার যেমন বিদেশে ঈদ করব, মেয়েদের মন খারাপ হতেই পারে। ওই সময়ে ওদের মানসিকভাবে চাঙা রাখার জন্য আমাকে বিশেষ কিছু পরিকল্পনা করতে হয়। এগুলো করলে ওরা খুব খুশি হয়।
সমকাল: ২০১৯ সালে ছেলেরা ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছে। ওই দলের কারও সঙ্গে কথা হয়েছে?
জ্যোতি: না, ওইভাবে কথা হয়নি। তবে তামিম ইকবাল ভাই আমাদের সঙ্গে যখন বসেছিলেন কিছুদিন আগে, তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁর কথাটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে কখনও ভালো করতে পারেননি। কেন ভালো করতে পারেননি, সে কারণটা বলেছেন। বিশ্বকাপে গিয়ে সব সময় অনেক বেশি ভালো করতে চেয়েছেন। অনেক কিছু করতে চেয়েছেন, যার জন্য ভালো হয়নি। তিনি আমাদের বলেছেন ক্রিকেট উপভোগ করতে। বিশ্বকাপ চিন্তা করে খেলতে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নতুন জায়গায় গিয়ে এক্সপ্লোর করতে বলেছেন। তাঁর কাছ থেকে যে বার্তা পেয়েছি, আমরা ম্যাচ বা ট্রফি জিতি বা কোনো কিছু না জিতি আমাদের একইভাবে দেখবেন।
সমকাল: আপনাদের টার্গেটে কোন কোন দল?
জ্যোতি: নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর দুটি দলের কথা যদি বলি– ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ ভারতের বিপক্ষে আগে জিতেছি। এজন্য বলছি। দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারিয়েছি, এ কারণে একটা আত্মবিশ্বাস থাকবে। এর থেকে অন্তত একটি ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে।