ভারতের লাদাখের লেহ এলাকার কাছে পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে তিনজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
হেলিকপ্টারটি ছিল পুরনো ‘চিতা’ বহরের এবং এটি পাহাড়ি এলাকায় ব্যবহৃত হয়। হেলিকপ্টারে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একজন মেজর এবং একজন মেজর জেনারেল ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর পাইলট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, আর মেজর জেনারেল শচীন মেহতা যাত্রী হিসেবে ছিলেন।
তবে দুর্ঘটনার পর তাদের একটি সেলফি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।সেই সেলফিতে দেখা যায়, ধ্বংস হওয়া হেলিকপ্টারের পাশে পাথরের ওপর তারা বসে আছেন।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনজন সেনা কর্মকর্তার বেঁচে যাওয়াকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর আবারও ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরনো ‘চিতা’ হেলিকপ্টার বহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি এই হেলিকপ্টারগুলো বহু বছর ধরে উচ্চ পাহাড়ি এলাকায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর আগেও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এই হেলিকপ্টার বহরের সঙ্গে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ধাপে ধাপে এই পুরনো হেলিকপ্টারগুলো বাতিল করে নতুন দেশীয় হালকা হেলিকপ্টার ব্যবহার শুরু করা হচ্ছে। এগুলো তৈরি করছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। নতুন লুহ হেলিকপ্টার ঘণ্টায় ২২০ কিমি গতিতে উড়তে সক্ষম এবং প্রায় ৩৫০ কিমি পর্যন্ত অপারেশন চালাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিতা হেলিকপ্টার এখনো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কার্যকর হলেও পুরনো প্রযুক্তির কারণে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।