পাকিস্তান সুপার লিগের গত আসরে পেশোয়ার জালমিতেই ছিলেন নাহিদ রানা। তবে এক ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি এই তারকা পেসারের। তবে এবারের আসরে করেছেন বাজিমাত। জালমির শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই পেসার। আসরের শুরু থেকেই তার গতি, আগ্রাসন আর লাইন-লেংথে দিশাহারা হয়েছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। পাঁচ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। পরিসংখ্যান এই হলেও মাঠের খেলা দেখে তার মুন্সিয়ানার প্রশংসায় মেতেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে নাহিদের গতিতে মুগ্ধ হয়েছেন ওয়াসিম আকরাম-শোয়েব মালিকের মতো পাকিস্তানি তারকারা।
ফাইনালে চার ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২২ রান খরচ করে দুই উইকেট নেন নাহিদ। তার ইকোনমি রান রেট ছিল ৫.৫০। দারুণ এই বোলিংয়ের কারণে সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন নাহিদ। আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন তিন লাখ পাকিস্তানি রুপি। পিএসএল ফাইনালে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় পেসার নাহিদ রানা। তার আগে ২০২১ সালে ইমরান খান ও ২০২৪ সালে এই কীর্তি গড়ে দেখান খুশদিল শাহ। দুজনই ছিলেন মুলতান সুলতানসের জার্সিতে।
গতিতারকা রানার বোলিং দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওয়াসিম আকরাম ধারাভাষ্য কক্ষে বলেন, ‘গতি বলতে এটাই বোঝায়। সে তাদের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছিল। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে তার দৌড়ানোর ভঙ্গিটা দারুণ। সহজ অ্যাকশন। মোটেও জটিল নয়। তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’ প্রথম ইনিংস শেষে টিভি সাক্ষাৎকারে শোয়েব মালিক বলেছেন, ‘অনেক স্পেশাল। তার অনেক পেস আছে। এর সঙ্গে লাইন-লেংথ বেশ ভালো। এত ভালো পেসের সঙ্গে এমন দারুণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেই আপনি ভালো বোলার হতে পারবেন। এ কারণেই সে এত স্পেশাল।’
নাহিদ মূলত নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হেঁটেই এমন সাফল্য পেয়েছেন। ফাইনাল জয়ের পর টিভি সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়ে এই গতিতারকা বলেছেন, ‘এবার (পিএসএল) অনেক উপভোগ করেছি। গত বছর এসে ম্যাচ খেলতে পারিনি। এবার ম্যাচ খেলায় অনেক উপভোগ করেছি। চেষ্টা করেছি আমার প্ল্যান এক্সিকিউট করতে এবং প্ল্যান কাজে লাগাতে। আমি অনেক খুশি।’
নাহিদের এই পরিকল্পনা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা আগামীতেও বজায় থাকে কি নাÑসেটাই এখন দেখার।