ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বৃহস্পতিবার আবারও ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফিফা কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনফান্তিনো বলেন, ‘অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং অবশ্যই তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে। এর কারণ খুবই সহজ, আমাদের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সবাইকে কাছাকাছি আনতে হবে, এটি আমার দায়িত্ব।’
এর আগে বুধবার খবর আসে, ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদলকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এফএফআইআরআই সভাপতি মেহদি তাজসহ (যিনি আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সদস্য ছিলেন) আরও দুই কর্মকর্তা কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অপমানজনক আচরণের’ কারণে দেশে ফিরে গেছেন।
অন্য দিকে কানাডার অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গোপনীয়তা–সম্পর্কিত আইনের কারণে আমরা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে সরকার এ বিষয়ে শুরু থেকেই স্পষ্ট ও ধারাবাহিক অবস্থানে রয়েছে। আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কানাডায় প্রবেশের যোগ্য নন এবং আমাদের দেশে তাঁদের কোনো জায়গা নেই।’

যদিও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, এই ঘটনা ছিল ‘অনিচ্ছাকৃত।’ বৃহস্পতিবার এক সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, ইরানের দুই প্রতিনিধি শেষ পর্যন্ত কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্যকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা কংগ্রেসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, অভিবাসন–সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেও ইরানকে ফিফা কংগ্রেসে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছিল ফিফা। তবে বৃহস্পতিবার প্রতিনিধিদের নাম ডাকার সময় ইরানের প্রতিনিধিদলকে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব টানাপোড়েনের মধ্যেও ইনফান্তিনো ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ফিফার কোনো সদস্য সংস্থা নিষিদ্ধ নয় এবং কাউকে বহিষ্কারের মতো পরিস্থিতিও নেই।’
পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, যদি ইনফান্তিনো ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে সম্মত থাকেন, তাহলে তাঁরও এতে আপত্তি নেই। এর আগে মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে ‘স্বাগত’। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দলটিকে ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ টুর্নামেন্টে না আসার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কংগ্রেসেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ওই কংগ্রেসেও উপস্থিত ছিলেন ইনফান্তিনো।
এর আগে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ইরানের বদলে অন্য কোনো দলকে বিশ্বকাপে খেলানোর সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেন।
ইরান বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ১৫ জুন নিজেদের অভিযান শুরু করবে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে অবস্থিত সোফি স্টেডিয়ামে হবে সেই ম্যাচ। এরপর সিয়াটলে মিসর এবং ইংলউডে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা।
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল, শেষ হবে ১৯ জুলাই।