সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নতুন সরকার আপাতত প্রশাসক নিয়োগ দিলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতার পাশাপাশি জোটগত সমীকরণও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম। নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি খাগড়াছড়ি থেকে নিজের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে ঢাকা-৮ আসনে স্থানান্তর করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যেই সাদিক কায়েম ভোটার স্থানান্তর করেছেন। যদিও তিনি এখনো প্রকাশ্যে বড় ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি, তবে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ গোপন ভোটে তিনি এগিয়ে আছেন বলেও জানা গেছে।
জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অন্য এক নেতা বলেন, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে থাকলেও সাদিক কায়েমের সম্ভাবনাই বেশি।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বেশিরভাগ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে, বাকি কয়েকটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাদিক কায়েমসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, আপাতত দলটি এককভাবে নির্বাচন করার চিন্তা করছে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
ঢাকা সিটি নির্বাচনে জামায়াতের আরও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সেলিম উদ্দীন, যিনি দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নান-এর নামও মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ ও জোটগত সমীকরণ স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।