মাত্র কয়েক বছর আগেও একটি ম্যাচ খেলে ৫০০ টাকা আয় করতেন। আজ সেই ছেলেই আইপিএলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের নামটা মনে করিয়ে দিলেন সাকিব হোসেন।
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে সাকিব হোসেন এবং আরেক অভিষিক্ত প্রফুল হিঙ্গে বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। দুজনই নেন চারটি করে উইকেট। তাদের দাপটেই ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় রাজস্থান। ৫৭ রানের জয় পায় হায়দরাবাদ, আর মৌসুমে প্রথম হার দেখে রাজস্থান।
তবে এই পারফরম্যান্সের পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। বিহারের গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া সাকিব বড় হয়েছেন সীমিত সামর্থ্যের পরিবারে। তার বাবা আলি আহমেদ হোসেন ছিলেন একজন কৃষক। কিন্তু হাঁটুর চোটে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
সেই কঠিন সময়েই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় সাকিবের। স্থানীয় টেনিস বলের টুর্নামেন্ট খেলেই শুরু। প্রতি ম্যাচে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করতেন।
তবে সবচেয়ে বড় ত্যাগটা করেছেন তার মা সুবুক্তারা খাতুন। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় নিজের গয়না বিক্রি করে কিনে দেন বোলিং স্পাইক জুতা।
সাকিব এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জুতার দামই ছিল ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সেই টাকা খরচ করলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যেত।
তার মা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল—জুতা না থাকলে খেলবে কীভাবে। সেই কথাতেই সিদ্ধান্ত নেন গয়না বিক্রি করার।
অভিষেক ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, এমন শুরু সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। ম্যাচের আগের দিনই তিনি জানতে পারেন যে খেলবেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন সেরাটা দেওয়ার জন্য।
গোপালগঞ্জের ছোট শহর থেকে আইপিএলের বড় মঞ্চ—সাকিব হোসেনের এই যাত্রা শুধু একটি সাফল্যের গল্প নয়, বরং ত্যাগ, পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক বাস্তব উদাহরণ।