চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলমের বাসায় এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বৈঠকটি ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে মনজুর আলম বলছেন, দলীয় একটি প্রোগ্রামে এসে দুপুরে হঠাৎ কুশলাদি বিনিময় করতে হাসনাত তাকে ফোন দেন। তখন তিনি হাসনাতকে দাওয়াত দিলে দুপুরে তার বাসায় যান।
তবে ঘুরেফিরে এই বৈঠকের কারণ হিসেবে এনসিপি থেকে চসিকে মেয়র পদে মনজুর আলমের প্রার্থিতার কথাই আসছে। আর এনসিপি বা মেয়র মনজুর—কেউই সেটি স্বীকার না করলেও অস্বীকারও করেননি।
এশিয়া পোস্টকে মনজুর আলম বলেন, ‘তিনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) অন্য প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম এসেছেন। দুপুর ১২টার দিকে আমাকে কল করে বললেন চট্টগ্রাম এসেছেন। তখন আমি দাওয়াত দিলাম, যেন দুপুরে আমার বাসায় খাওয়া-দাওয়া করেন। ৩টার দিকে তিনি আসেন। খাওয়া-দাওয়া করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। পরে তো তিনি হেঁটে বের হলেন। তাকে যেতে দেবে না, এই করবে সেই করবে—কত কথা! অবশ্য আমি শুনিনি। আমি তো বাসার ভেতর ছিলাম। আমাকে অন্যরা বলেছে।’
এনসিপি থেকে মেয়র নির্বাচন করছেন, এই গুঞ্জন সত্য কি না?— এশিয়া পোস্টের এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর আলম বলেন, ‘এখনও মেয়র নির্বাচনের ডিক্লারেশন দেয়নি। আমি যদি নির্বাচন করিও, সেটা কি গোপনে করতে পারব? এনসিপি থেকে করলেও (প্রার্থী) সেটা গোপনে করার তো সুযোগ নেই। তবে আজ কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। এটা শুধু একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ।’
হাসনাত আবদুল্লাহ কী কাজে চট্টগ্রাম এসেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক জোবায়েরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত সফর। এনসিপির দলীয় কোনো কাজে তিনি আসেননি। এখন মনজুর তো সামনে মেয়র নির্বাচন করবেন। শুনেছি যারা এটা নিয়ে মব করার চেষ্টা করেছে, তারা ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী। তারা হয়তো মনে করছে মনজুর আলম এনসিপি থেকে নির্বাচন করলে শাহাদাত হোসেন জিততে পারবে না। তবে এনসিপি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
সাবেক মেয়র মনজুরকে আওয়ামী লীগ নেতা বলা বিএনপি নেতাদের সাজে না—এমন মন্তব্য করে জোবায়েরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘সাবেক মেয়র মনজুরকে বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলছেন। তিনি তো মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি থেকে। পরে আবার আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি খালেদা জিয়ার নামে দোয়া-মিলাদ করেছেন, হাসপাতাল করেছেন। তখন তিনি ভালো ছিলেন। এখন হাসনাত দেখা করলে তারা মব করার চেষ্টা করে। এগুলো মাননসই না।’