শুক্রবার রাতে লা লিগার ম্যাচে জিরোনার মতো দল রুখে দিয়েছে রিয়ালকে। দলটি হোঁচট খেয়েছে ১-১ গোলে। তা আবার নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। তার আগে স্প্যানিশ লিগে মায়োর্কা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ ব্যবধানে হার মেনেছে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার ক্লাবটি।
সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। খারাপ সময়ের দুষ্ট চক্রে যেন একটু একটু করে আটকে পড়ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। আর তাতে শিরোপা লড়াই থেকে ধীরে ধীরে যেন ছিটকে যাওয়ার উপক্রম রিয়ালের। মার্চে সময়টা ভালোই কেটেছে রিয়ালের। কিন্তু এপ্রিল আসতেই সব যেন গড়বড় হয়ে গেছে তাদের জন্য। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে রিয়াল। পয়েন্ট হারিয়েছে তিনটিতেই।
এতে পয়েন্ট খোয়ানোতে হ্যাটট্রিক করে ফেলেছে রিয়াল। টানা দুই হারের পর ড্র। আর জিরোনার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগির করায় রিয়ালের শিরোপা জয়ের সুযোগ কমে গেছে অনেকটা। বার্সেলোনা ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে এস্পানিওলকে হারালে রিয়াল পিছিয়ে যাবে ৯ পয়েন্টে। পরে লা লিগার শিরোপা জয়ের দৌড়ে তাদের হাতে থাকবে মাত্র সাত ম্যাচ।
জিরোনার বিপক্ষে জয়বঞ্চিত হওয়ার জন্য নিজেদের ব্যর্থতার সঙ্গে রেফারিকেও দুষছেন রিয়ালের সমর্থকরা। ম্যাচের পর কোচ আলভারো আরবেলোয়া পেনাল্টি না পেয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।
ম্যাচের ৫১ মিনিটে ফেদে ভালভার্দে জালে বল জড়িয়ে লিড এনে দেন রিয়ালকে। জিরোনার জার্সিতে ১১ মিনিট বাদে টমাস লেমার নির্ভুল নিশানায় লক্ষ্যভেদ করে স্কোর লেভেল করেন। আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ শেষ হয় ১-১ স্কোরলাইনেই। তবে লড়াইয়ের ৮৭ মিনিটের মধ্যে জিরোনার বক্সে বল নিয়ে আক্রমণ রচনা করা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বাজেভাবে ট্যাকল করেন প্রতিপক্ষের ফুটবলার। ফরাসি এ ফুটবল তারকা মাঠে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো—রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজিয়ে খেলা এগিয়ে নেন।
পরে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, এমবাপ্পের কপাল রক্ত লাল হয়ে গেছে। বক্সে প্রবেশের পর জিরোনার রক্ষণভাগের ফুটবলার ভিটর রেইসের হাতের আঘাতে পড়ে যান এমবাপ্পে। রেফারি বা ভিএআর ফাউলটি আমলে নেয়নি।
ওই পেনাল্টি পেলে রিয়াল জিতেও জেতে পারত। তাই তো ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে অখুশি রিয়াল কোচ আরবেলোয়া ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। এটা আসলে আরো একটা উদাহরণ। আবারও পুরোনো ঘটনা। আমরাও বুঝতে পারছি না। ভিএআর তাদের সুবিধামতো সময়ে হস্তক্ষেপ করে, আর যখন মনে হয় করে না।’
রিয়াল কোচ আরো যোগ করেন, ‘এটি পরিষ্কার ফাউল ছিল। প্রথমার্ধে কিলিয়ান এর চেয়েও ফাউলের শিকার হয়েছিল। রেফারিদের নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে। এই রেফারির ক্ষেত্রেও তাই, মায়োর্কাতেও যেমনটা হয়েছিল, সেই পুরোনো গল্প।’
শিরোপা হাতছাড়া হলো কি না তা নিয়ে না ভেবে, বরং লড়াই চালিয়ে যেতে চান আরবেলোয়া, ‘না, যেদিন আমরা গাণিতিকভাবে হেরে যাব, সেদিনই কেবল আমি তা মেনে নেব। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, আমরা প্রতিটি ম্যাচে আমাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব। এটি রিয়াল মাদ্রিদ, আর আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে রিয়াল। বায়ার্নের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ফিরতি লেগের ম্যাচটি হবে মিউনিখে। পরে লা লিগায় ২১ এপ্রিল মোকাবিলা করবে আলাভেসকে।