রোমানিয়ান ফুটবলের ধ্রুবতারা এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ মিরচা লুচেস্কু পরলোকগমন করেছেন। জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়ার মাত্র পাঁচ দিন পর ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএফ) সহ ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৫৬ নম্বরে থাকা রোমানিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দারুণ লড়াই করেছিল। প্লে-অফ সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠলেও ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তুরস্কের কাছে হেরে তাদের বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায়। সেই ম্যাচটিই ছিল রোমানিয়ার ডাগআউটে মিরচা লুচেস্কুর শেষ উপস্থিতি। দল বিশ্বকাপ বঞ্চিত হলেও এই অভিজ্ঞ কোচের ওপর আস্থা হারায়নি ফেডারেশন। গত বৃহস্পতিবার দলের অনুশীলনের আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন লুচেস্কু। এর পরপরই তিনি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। শুক্রবার সকালে জানা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান এই ফুটবল গুরু। এক বিবৃতিতে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ‘মিরচা লুচেস্কুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাকে শোকাহত। তিনি ছিলেন এক অনন্য কিংবদন্তি। আমাদের ফুটবল শুধু একজন অসাধারণ কৌশলবিদকেই হারায়নি, বরং একজন পথপ্রদর্শক, দূরদর্শী এবং জাতীয় প্রতীককে হারিয়েছে। তিনি দেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে গেছেন।’
লুচেস্কু প্রথম দফায় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রোমানিয়ার কোচের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে আবারও জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। রোমানিয়া ছাড়াও তিনি তুরস্ক জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। ক্লাব ফুটবলেও তার সাফল্য আকাশচুম্বী। ইন্টার মিলান, গালাতাসারাই, বেশিকতাস, শাখতার দোনেৎস্ক, জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ডায়নামো কিয়েভের মতো বিখ্যাত ক্লাবগুলোর ড্রেসিংরুম সামলেছেন তিনি। শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে উয়েফা কাপ জয় তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।
কোচিংয়ে আসার আগে রোমানিয়ার জাতীয় দলের জার্সিতে ৬৫টি ম্যাচ খেলেছেন লুচেস্কু। রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা এই সাবেক অধিনায়ক দেশের হয়ে ৯টি গোলও করেছেন।