Image description

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক মাওলা সরকার (৪৫) মহেশপুর গ্রামের মৃত হাশেম সরকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পিলখানার ঘটনায় বিডিআরের চাকরি হারিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন খোরশেদ আলম। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। বিভিন্ন লোকজনের উপর হামলা-মামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে যুক্ত হন এনসিপিতে। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের দলবল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগ দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

 
 

নিহতের চাচাতো ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহিম সরকার বলেন, উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন মহেশপুর গ্রামের নোয়াব সরকারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ইউপি নির্বাচন ও সেচস্কিম নিয়ে চলা দ্বন্দ্বের জেরে এর আগেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে মাওলাসহ আমরা কয়েকজন মহেশপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসছিলাম। এ সময় রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আলম, নানু মেম্বার, দেলোয়ার ও মোজাম্মেলসহ ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পেছন থেকে মাওলার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা বাজার থেকে ফেরার পথে তাল গাছের পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ৮-১০ জন লোক বের হয়ে মাওলাকে পেছন থেকে কোপাতে থাকে। আমরা চিৎকার শুরু করলে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

বাঙ্গরা বাজার থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিজানুর রহমান বলেন, খোরশেদ আলম নির্বাচনের সময় আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে কিন্তু সে দলীয় কোনো নেতাকর্মী নয়।

হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি আবদুল কাদের জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড করা হবে।