জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন বলেছেন, আমরা যেন খুব দ্রুত আবার হীরক রাজার দেশে ফিরে যাচ্ছি, যেখানে রাজার বিরুদ্ধে কিছু বললেই জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়। ঠিক সেই সময়ে আমরা এত দ্রুত ফিরে যাব এটা আমরা চিন্তাও করিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা খুব দ্রুত হীরক রাজার দেশে পৌঁছে যাচ্ছি। সরকার খুব নির্লজ্জভাবে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং সাধারণ মানুষকে ‘পুতুল’ বানাতে চাইছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ থেকে আমাদের যে বুঝ দেওয়া হচ্ছে, তা হলো অনাহারে নাহি খেত, বেশি খেলে বাড়ে মেদ। অর্থাৎ জনগণকে বোঝানো হচ্ছে, এই অধ্যাদেশগুলো তাদের জন্য ভালো না, পরে আরও শক্তিশালী করে আনা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ ২০০৬ সালের বাংলাদেশ নয়। এটা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে এটা সরকারকে বুঝতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আইন সংশোধন করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে হাইকোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও পরে আবার তা ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুদককে সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা দিলেও এখন সেটি বাতিলের পথে। সরকার বলছে, তাদের অনুমতি ছাড়া মামলা হলে সরকারের অবস্থান দুর্বল হবে। অর্থাৎ চোরের বিচার চোরের হাতেই দেওয়া হচ্ছে। চোরের সাক্ষী বাটপার এই কথাটা এখানে প্রযোজ্য। নতুন অধ্যাদেশে আমরা আবার সেই জায়গায় ফিরে যাচ্ছি।
তিনি দুদকের বাছাই কমিটির কাঠামো তুলে ধরে বলেন, সেখানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক, মহা হিসাব নিরীক্ষক, পিএসসির চেয়ারম্যান, সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধি এবং দুর্নীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরকার বলছে, সেখানে তাদের প্রতিনিধি কম এটাই তাদের আপত্তি।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া সত্ত্বেও ঐকমত্য কমিশনে এটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। পরে আলোচনা হলেও বিএনপির কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। কিন্তু এখন আইজিপি নিয়োগে পুলিশ কমিশনের সুপারিশের ক্ষমতাও তারা দিতে চাচ্ছে না। সরকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ বাহিনী গঠনে বাধা দিচ্ছে, কারণ এতে ভবিষ্যতে তাদের ‘বড় চোর’ হওয়ার পথে বাধা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, যে অধ্যাদেশ নির্বাহী ক্ষমতা কমায়, তা বাতিল করা হচ্ছে। আর যেগুলো ক্ষমতা বাড়ায়, তা রাখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের জন্য যে অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেটি এখনো বহাল রাখা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হতে পারে।
গণভোটের অধ্যাদেশ যদি এখন আর প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতির এই অধ্যাদেশ কেন বাতিল হবে না, প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা বলেছিল, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। কিন্তু এখন তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মাসে ২০০০ আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে আন্দোলন নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনই ছিল ৭৬ শতাংশ। তখন সরকার আইন করেছিল, আন্দোলনে নামলে দুই কর্মদিবসের মধ্যে বরখাস্ত করা হবে। এখন সেই আইন বহাল রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ভিন্নমত দমন করা যায়।