Image description

কাবুলে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রশিদ খান, মোহাম্মাদ নাবি, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও নাভিন-উল-হকের মতো ক্রিকেটাররা।

আফগান সরকারের দাবি, ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪০০ জনে পৌঁছেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলজুড়ে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

রমজানে ইফতারের পর বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ওই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

এ ঘটনায় সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান। 

রশিদ খান বলেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সবশেষ খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।

ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুলবশত, বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ। মানুষের জীবনকে এতটা নগন্য করে তোলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত জঘন্য কাজ এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘এটি কেবল বিভেদ এবং ঘৃণাকেই ইন্ধন জোগাবে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলিকে এই সাম্প্রতিক নৃশংসতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।

এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান জনগণের সাথে আছি। আমরা সেরে উঠব এবং জাতি হিসেবে উঠে দাঁড়াব। সবসময়ই তা করি আমরা।’

 

আফগান ক্রিকেটের আরেক বড় তারকা মোহাম্মাদ নাবি লিখেছেন, সুস্থ জীবনের আশায় যারা এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এসেছিল, তাদেরই জীবনই কেড়ে নেওয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘আজ রাতে কাবুলের একটি হাসপাতালে আশার আলো নিভে গেল।

সুস্থ ও নতুন জীবনের আশায় যে সব তরুণকে তাদের পরিবার এখানে রেখেছে, বোমার আঘাতে তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মা এবং আত্মীয়রা হাসপাতালের দরজার বাইরে একত্রিত হয়েছে, প্রত্যেকেই তাদের ছেলের নাম ধরে এবং খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।”

 

তিনি আরো বলেন, ‘এরা সেই মানুষ, যাদের পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চেয়েছিলো, কিন্তু ২৮ রমজানের রাতে পাকিস্তানের সামরিক শাসনামলে তাদের জীবন শেষ হয়ে গেল।’

একই সুর শোনা গেছে অলরাউন্ডার আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের বক্তব্যেও। তিনি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই আক্রান্ত হাসপাতাল থেকে আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা যায়। রমজানের সময় নিরীহ মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান এবং ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, পেসার নাভিন-উল-হক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি চলমান পরিস্থিতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের শাসনামলের মধ্যে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

তবে পাকিস্তান সরকার চিকিৎসাকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে তারা সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী সহায়তাকারী অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।