স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামে তৈরি একটি ফটোকার্ড গত ৬ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। যেখানে লেখা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “বিএনপিকে কেউ চাঁদাবাজ দল বললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ক্যাপশনে রুমিন ফারহানা লিখেন, ‘‘একটা দলের ৯৯.৯৯% চাঁদাবাজ হলেই কি তাকে চাঁদাবাজ দল বলা যায় নাকি? কখনোই না।’’
একই ফটোকার্ড পোস্ট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহও। তার ক্যাপশনে ছিল, “সালাউদ্দিন ভাই কঠিন নছিহত করেছেন। আপনারা সালাউদ্দিন ভাইয়ের কথার উপর আমল করিবেন।”
কিন্তু দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে প্রচারিত বক্তব্যটি ভুয়া। যমুনা টেলিভিশনের ফটোকার্ডের আদলে এটি তৈরি করে ‘আশার আলো’ নামের একটি স্যাটায়ার পেজ।
এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্যাটায়ার পেজে প্রকাশিত বানোয়াট বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত মন্তব্য হিসেবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের পেজ থেকেও এমন বক্তব্য প্রচারের উদাহরণ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পেজের পোস্ট পর্যালোচনা করে এ ধরনের ফটোকার্ড প্রকাশকারী নয়টি সক্রিয় ফেসবুক পেজ শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এসব পেজে অন্তত ১৮৭টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর উক্তি ও ফটোকার্ডসংবলিত পোস্ট পাওয়া গেছে।
পেজগুলোর পোস্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে বানোয়াট মন্তব্য, নারীদের নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য, সম্পাদিত ছবি এবং সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন দাবি দেখা গেছে।
অনেক ক্ষেত্রে মূল পোস্টটি যে ব্যঙ্গাত্মক পেজে প্রকাশিত হয়েছিল, শেয়ার হওয়ার সময় সেই পরিচয় আর থাকছে না। ফলে কারও নামে বানানো কথা অন্যদের আলোচনায় জায়গা নিচ্ছে তার প্রকৃত বক্তব্য হিসেবে।
৯ পেজে ১০ দিনে ১৮৭টি ভুয়া ফটোকার্ড
১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত নয়টি স্যাটায়ার ফেসবুক পেজের পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে অন্তত ১৮৭টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর উক্তি ও ফটোকার্ডসংবলিত পোস্ট শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এসব পোস্টে মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং আলোচিত ব্যক্তিদের নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি পোস্ট পাওয়া গেছে ‘NewsTime TV’ পেজে, অন্তত ৬৪টি। এরপর ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’-এ ৪০টি, ‘Gupto Tv’-তে ৩৮টি এবং ‘Gupto Television’-এ ১৭টি পোস্ট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ‘Pinaki Elias National Institute of Sources - PENIS’ পেজে নয়টি, ‘Tempo Stand’ নামে চালু নতুন পেজে সাতটি, ‘Daily Mollar Desh’ ও ‘আশার আলো’ পেজে পাঁচটি করে এবং ‘ChandaVision - খাম্বার কাছের টেম্পুস্ট্যান্ডের টেন পারসেন্ট চাঁন্দা’ পেজে দুটি পোস্ট শনাক্ত হয়েছে।
এসব পেজ থেকে বানোয়াট বক্তব্য ছড়ানোর নজির আগের মাসগুলোতেও পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়ায়, যেখানে রয়টার্স অর্থের বিনিময়ে গুজব প্রকাশ করে বলে তার নামে বক্তব্য বসানো হয়। রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, তিনি এমন মন্তব্য করেননি। বক্তব্যটির উৎস ছিল ‘Gupto Television’ পেজ।
একইভাবে, বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগকে কটাক্ষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করা হয় ‘Gupto Tv’ পেজে। গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, ছোটবেলায় বিদ্যুৎ ছাড়াই মানুষ বেঁচে থাকলেও এখন ১৬–১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারকে গালাগাল করা হচ্ছে। প্রথম আলোর যাচাই অনুযায়ী, মন্ত্রী এমন বক্তব্য দেননি। ভুয়া ফটোকার্ডডি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এমন পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ ও ‘Daily Mollar Desh’ নামে দুটি আলাদা পেজেও বানোয়াট বক্তব্য পাওয়া গেছে। প্রথম পেজটি থেকে রিকশাচালক মো. সুজনের নামে দাবি করা হয়, তার মতো কেউ দাঁড়িয়ে স্যালুট না দেওয়ায় ভারতে নরেন্দ্র মোদির পতন হয়নি। ওই বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ড দৈনিক ইনকিলাবের পেজেও প্রকাশ করা হয়। রিউমর স্ক্যানারের যাচাইয়ে দেখা যায়, সুজন এমন মন্তব্য করেননি; এর সূত্র ছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট।
অন্যদিকে, ইংরেজি নামের ‘Daily Mollar Desh’ পেজ থেকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নামে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ আমলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সাঁতার কাটতে পারে না, অথচ তারা বুকসমান পানি সাঁতরে স্কুলে যেতেন। রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী এমন মন্তব্য করেননি। ফটোকার্ডটির উৎস ছিল এই পেজ।
রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও বানোয়াট বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। গত জুনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামের নামে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ছাত্রশিবির বাধা দেবে না এবং জামায়াতের সঙ্গে ‘বেইমানির শাস্তি’ বিএনপির প্রাপ্য। রিউমর স্ক্যানারের যাচাইয়ে দেখা যায়, তিনি এমন মন্তব্য করেননি। বক্তব্যটির সূত্র ছিল ‘Pinaki Elias National Institute of Sources - PENIS’ পেজের একটি পোস্ট।
চাঁদাবাজি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামেও বানোয়াট বক্তব্য ছড়ানো হয়। গত জানুয়ারিতে ‘ChandaVision’ পেজের একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, নির্বাচনের পর বিএনপি চাঁদাবাজি কমিয়ে দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, তিনি এমন মন্তব্য করেননি। বাংলাভিশনের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি দাবিটির উৎস ছিল পেজটির একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট।
একই মাসে ‘Tempo Stand’ পেজ থেকে ছড়ানো আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বিএনপির দুই নেতা মাহদি আমিন ও ওয়াহিদুজ্জামানের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া বঙ্গভবনের এক প্রোগ্রামার। দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দাবিটি ভুয়া বলে উঠে আসে। পুরোনো পেজটি বন্ধ থাকলেও একই নামে নতুন পেজ চালু রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমেও পৌঁছাচ্ছে বানোয়াট বক্তব্য
স্যাটায়ার পেজের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রচারের একটি উদাহরণ জুলাই অভ্যুত্থানের আলোচিত রিকশাচালক মো. সুজনকে নিয়ে তৈরি ফটোকার্ড।
গত আগস্টে ছড়ানো ওই ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, সুজন বলেছেন, ভারতে আন্দোলনে নরেন্দ্র মোদির পতন হয়নি, কারণ সেখানে তার মতো কেউ দাঁড়িয়ে স্যালুট দেননি।
দৈনিক ইনকিলাবের ফেসবুক পেজেও ওই বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।
রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, সুজন এমন মন্তব্য করেননি। দাবিটির সূত্র ছিল ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট।
আরেকটি ঘটনায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ২৫ মার্চ ‘মিরর নিউজ’ নামের একটি সরকার-নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল একটি ফটোকার্ডে দাবি করে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, “একটা মাস গাড়ি ছাড়া চলুন, হাঁটাহাঁটি করলে শরীর ভালো থাকে।”
ওই বক্তব্যের পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করেনি মিরর নিউজ।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেননি। ফটোকার্ডটির উৎস খুঁজতে গিয়ে ‘চ্যানেল এআই’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৩ মার্চ প্রকাশিত মূল পোস্টটি পাওয়া যায়।
পেজটির লোগো তৈরি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল আইয়ের লোগোর আদলে। তবে পেজের পরিচিতিতে ‘স্যাটায়ার/প্যারোডি’ লেখা রয়েছে।
স্যাটায়ার পেজ থেকে লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষ
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি একাধিক স্যাটায়ার পেজে নারীদের লক্ষ্য করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও অবমাননাকর ফটোকার্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজনীতিক, অভিনয়শিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীরা রয়েছেন।
অনেক ফটোকার্ডে সংবাদমাধ্যমের মতো লোগো ও নকশা ব্যবহার করে নারীদের ছবি বসানো হয়েছে। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, শরীর, পোশাক বা যৌনতা নিয়ে বানোয়াট বক্তব্য।
এসব পোস্টে প্রধানত চার ধরনের আক্রমণ দেখা গেছে: লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়কে ঘিরে অপমান; সাধারণ গালি ও অবমাননাকর তকমা; রাজনৈতিক বা আদর্শিক অবস্থানকে ঘিরে আক্রমণ; এবং শরীর বা পোশাক নিয়ে বিদ্রূপ।
৮ ফেব্রুয়ারি ‘গজবভিশন’ পেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীর ছবি দিয়ে একটি ভুয়া ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার নামে লেখা হয়, “আমি পার্ট-টাইম শিক্ষক, আর ফুল-টাইম শিবিরের সেবাদাসী।”
৪ অক্টোবর ‘মাই বাংলা টিভি’ পেজে অপু বিশ্বাসকে নিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে কোনো সূত্র ছাড়াই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করা হয়।
একই পেজে পরীমনিকে নিয়ে আরেকটি ভুয়া ফটোকার্ডে তার উপার্জনকে যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত করে অশালীন বক্তব্য প্রচার করা হয়। বক্তব্যটি তার নিজের কথা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পক্ষে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
‘Gupto Tv’ পেজে ১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নারীদের নিয়ে ১৫টি কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড পাওয়া গেছে। ২ অক্টোবর পেজটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার নামে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে ধর্ষণ ও হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে তার নামে অশালীন বক্তব্য বসানো হয়।
১১ অক্টোবর একই পেজে শিক্ষক মোনামীর একটি সম্পাদিত ছবি দিয়ে আরেকটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “মোনামি ম্যামের বুকে হাদির ছবি; আসল নাকি এআই প্রশ্ন নেটিজেনদের।”
‘Pinaki Elias National Institute of Sources - PENIS’ পেজে ২৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ মাহমুদা আলম মিতুর নামে একটি ফটোকার্ডে যৌনতা নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রচার করা হয়। একই পেজে ১০ সেপ্টেম্বর রুমিন ফারহানার নামে আরেকটি ফটোকার্ডে শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ভুয়া বক্তব্য ছড়ানো হয়।
‘ChandaVision’ পেজে ১৬ সেপ্টেম্বর মডেল মেঘনা আলমের নামে একটি ফটোকার্ডে যৌনতা নিয়ে অশালীন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একই পেজে ১৩ জুন অভিনেত্রী, পরিচালক ও সংগীতশিল্পী মেহের আফরোজ শাওনকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক আক্রমণেও ব্যবহার হচ্ছে যৌন ইঙ্গিত
কয়েকটি পোস্টে নারীদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আক্রমণ করতে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি পোস্টে তার ভারতে অবস্থান এবং সোনা উদ্ধারের বানোয়াট দাবি একসঙ্গে জুড়ে যৌন রূপক ব্যবহার করা হয়। একই ধরনের আক্রমণের আরও উদাহরণ রয়েছে এখানে, এখানে ও এখানে।
‘মাই বাংলা টিভি’ রুমিন ফারহানাকে নিয়ে একটি ফটোকার্ডে দাবি করে, নির্বাচনের আগে বিয়ে না করলে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। বক্তব্যটি তারেক রহমানের নামে প্রচার করা হয়।
অন্যদিকে, ‘গজবভিশন’ ছাত্রদল নেত্রী মনসুরা আলমকে নিয়ে একটি পোস্টে ধানের শীষ প্রতীককে বিকৃত করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ব্যবহার করে।
এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার বদলে নারীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌনতাকে আক্রমণের বিষয় করা হয়েছে।
স্যাটায়ার পেজগুলোর পোস্টে দলীয় পক্ষপাতের ছাপ
স্যাটায়ার পরিচয়ে পরিচালিত এসব পেজের পোস্টে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রবণতাও পাওয়া গেছে। পেজগুলোর প্রতিটির সর্বশেষ ২০টি পোস্ট পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পেজগুলোর রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে। এর মধ্যে কোনটি আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া উক্তি দিয়ে মিম বানায়। আবার কয়েকটি পেজ বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন জনের ভুয়া উক্তি বানিয়ে প্রচার করে থাকে।
‘Gupto Television’, ‘বাকশাল ০.২’, ‘Gupto Tv’, ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’, ‘Daily Mollar Desh’, ‘Freedom Bangla News’, ‘আশার আলো’, ‘InfoBangla’, ‘Jorina Tv’ ও ‘NewsTime TV’—এই পেজগুলোর পর্যবেক্ষণ করা পোস্টে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থকদের বিপক্ষে কনটেন্ট পাওয়া গেছে। এসব পেজে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামে বানোয়াট বক্তব্য ও বিদ্রূপাত্মক ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘Pinaki Elias National Institute of Sources - PENIS’ পেজের পোস্টে বিএনপির পক্ষে এবং জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থানের প্রবণতা দেখা গেছে। ছাত্রশিবিরের সভাপতির নামে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাধা না দেওয়া এবং বিএনপিকে ‘বেইমানির শাস্তি’ দেওয়ার বানোয়াট বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনাটিও এই পেজ থেকে শুরু হয়।
‘ChandaVision - খাম্বার কাছের টেম্পুস্ট্যান্ডের টেন পারসেন্ট চাঁন্দা’ এবং ‘Tempo Stand’ নামে চালু নতুন পেজের পোস্টে জামায়াতের পক্ষে এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কনটেন্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘ChandaVision’ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে চাঁদাবাজি নিয়ে বানোয়াট বক্তব্য এবং পুরোনো ‘Tempo Stand’ পেজ থেকে জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বিএনপির দুই নেতাকে জড়িয়ে ভুয়া দাবি ছড়ানো হয়।