Image description

চট্টগ্রাম আদালতে এজলাস ভাগাভাগি করে বসতে হচ্ছে বিচারকদের। এজলাস সংকটের কারণে সকালে এক বিচারক বসলে বিকালে বসছেন আরেকজন। ফলে একই এজলাসে ভাগাভাগি করে বসতে গিয়ে অনেক সময় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে গোপনীয়তাও রক্ষা হয় না বিচারকদের। শুধু মহানগর দায়রা জজ আদালতে নয়, বেশ কয়েকটি আদালতে চলছে এজলাস সংকটের মধ্য দিয়ে। বিচারক পদায়ন করলেও বসার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে হিমশিম খাচ্ছেন আদালতসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বিকল্প উপায়ে এজলাস ও খাসকামরা তৈরি করে নির্দিষ্ট বসার জায়গা করা দরকার। প্রয়োজনে পুরোনো স্থাপনা যেগুলো আছে তা সংস্কার করে আপাতত ব্যবহার উপযোগী করা হোক। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে এজলাস সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন আদালত ও বিচারক পদায়ন করা হলেও এজলাস সংকট নিরসন হয়নি। ৮-৯ বছর আগে নতুন আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় এজলাস করার জন্য গণপূর্ত সবকিছু পরিকল্পনা ও ডিজাইন করেছিল। কিন্তু দেশে এত কিছু হলেও এ কাজটি কেন হয়নি বুঝতেছি না।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আদালত ভবনের ওপরে মালখানায় ৭-৮টির মতো এজলাস তৈরির কাজ চলছে। এগুলো যদি পরিপূর্ণভাবে তৈরি হয় এবং নতুন আদালত ভবনের চার তলায় এজলাস করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সংকট আর থাকবে না। এজলাস ভাগাভাগি করেও বিচারকদের বসতে হবে না। একই সঙ্গে মামলার জট অনেকাংশে কমে আসবে।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. নেছার আহম্মদ বলেন, মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক রয়েছেন ১৯ জন। কিন্তু এজলাস রয়েছে ১২টি। সাতজন যুগ্ম জজ তিনটি এজলাসে ভাগ করে বসেন। একজন সকালে বসলে আরেকজন বিকালে বসেন। এ ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ট্রাইব্যুনাল তিনটি আদালত সৃষ্টি হলেও বিচারক ও এজলাস নেই। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনজন বিচারক নতুন এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে সম্প্রতি নতুন চারটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন মহানগর দায়রা জজ আদালতে ১৯ জন জজ রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন বিচারকের বসার খাসকামরা ও এজলাস রয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া চারজন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের অফিস সংকট রয়েছে। এটি নিরসনে সাতজন যুগ্ম মহানগর জজ তিনটি এজলাস ও খাসকামরা ভাগাভাগি করছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে আগে দুটি অর্থঋণ আদালত থাকলেও এখন একটি বাড়িয়ে তিনটি হয়েছে। আদালত বাড়ানো হলেও বিচারক পদায়ন করা হয়নি। ফলে অর্থঋণ আদালত-২ এর বিচারক অর্থঋণ আদালত-৩ এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এজলাস ও বিচারক দুটিই সংকট রয়েছে এ আদালতে। একইভাবে পারিবারিক আপিল আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল, জেলা দায়রা জজ আদালতের আওতাধীন অনেকগুলো আদালতকে কক্ষ ভাগাভাগি করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এমনকি নতুন করে প্রতিষ্ঠিত ১৩টি পারিবারিক আদালতকেও অন্য আদালতের কক্ষ শেয়ার করতে হচ্ছে। ৩টি বাণিজ্যিক আদালতের পাশাপাশি সর্বশেষ প্রতিষ্ঠিত ৪টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালকেও অন্য আদালতের কক্ষ ভাগাভাগি করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩ লাখ। তার মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির ৮টি আদালতে ৭০ হাজার, মহানগর দায়রা আদালতগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার, জেলা ও দায়রা আদালতগুলোতে ১ লাখ ৫০ হাজার মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি, ৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ অন্যান্য ট্রাইব্যুনালে রয়েছে আরও ৫০ হাজারেরও বেশি মামলা। একদিকে মামলার জট ও বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন আদালত গঠন করা হলেও অবকাঠামোর অভাবে মিলছে না কাক্সিক্ষত সুফল।

সূত্র জানায়, সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা সুরাহা হয়নি।