দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, পুলিশের টিয়ারশেল, নির্বিচার গুলিবর্ষণ, গায়েবি মামলা আর অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠের দুঃসহ দিনগুলোতে যারা বুক চিতিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজ ক্ষমতায় বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, তখন ধারাবাহিকভাবে বিএনপি ও দলের রাজপথের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, নির্যাতিত নেতাদের নানা কৌশলে ফ্রেমিং ও ন্যারেটিভ তৈরি করে বিতর্কিত করা হচ্ছে। আর তাদের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বসন্তের কোকিলেরা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের এক পাশে সরিয়ে রেখে সুবিধাবাদী, সাবেক আমলা ও হাইব্রিড রাজনীতিকদের পুনর্বাসন চলছে।
তাদের সঙ্গে অল্প কিছুসংখ্যক যারা সরকারে রয়েছেন তারাও অনেকটা কোণঠাসা। সুবিধাবাদী ও সরকারবিরোধীরা মিলেমিশে কৌশলে একেক জন ত্যাগী নেতাকে টার্গেট করে জামায়াত-এনসিপিসহ দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক বটবাহিনী, বেশ কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো হয় অপপ্রচার, তৈরি করা হয় বিশেষ ন্যারেটিভ। পরবর্তীতে সেটিকে ইস্যু বানিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের দূরে সরিয়ে দিতে। বিশেষ করে ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতাদের পর্যায়ক্রমে করা হয়েছে বিতর্কিত। যার সর্বশেষ উদাহরণ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বার বার এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে ক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানালেও বড় একটি অংশই হতাশা থেকে হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়। তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মামলার মধ্যেও যারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন, তাদের যদি কোণঠাসা করে রাখা হয় তাহলে কর্মীরা কাজ করার উদ্দীপনা হারাবে। ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া দল শক্তিশালী হতে পারে না, আর দল শক্তিশালী না হলে সরকারও শক্তিশালী হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় এমপি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, নিঃস্ব হয়েছেন তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি। আবার কিছু সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে এটি ত্যাগীদের জন্য হতাশার। এই হতাশা থেকে অনেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য দায়ী আমরাই। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে দল ও দেশ উপকৃত হবে।
সর্বশেষ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় ছাত্রদলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা। ছাত্রদলকে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের মতো একই বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে দখলবাজ-চাঁদাবাজ দল হিসেবে ফ্রেমিং করা হয় (যদিও কিছু কিছু জায়গায় যেসব অভিযোগ এসেছিল সাথে সাথে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়)। বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসকে ফ্রেমিং করে মানসিক চাপে ফেলা হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বিএনপি সরকার, দল ও দলের নেতাদের টার্গেট করে চলছে এই ফ্রেমিং। বিরোধী জামায়াত-এনসিপি ও তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি একটি গ্রুপ, বিপুল সংখ্যক বটবাহিনী, কিছু গণমাধ্যম একত্রে টার্গেটকৃত নেতাদের ফ্রেমিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেন এবং সরকার ও দলকে চাপে ফেলে সেই নেতাকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেন। যার সর্বশেষ উদাহরণ- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
বিএনপি সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইশরাক হোসেন সেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন (যদিও প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আছে)। তখন তার উদ্দেশ্যের বিপরীতে প্রক্রিয়াটিকে হাইলাইট করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ঘটনা প্রসঙ্গে ইসলামি বক্তা ও জৈনপুরী দরবার শরীফের পীর মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, অসংখ্য দুর্নীতিবাজের ভিড়ে কিছু ভালো মানুষও আছে। কিন্তু ভালো মানুষ ভালো কাজ করতে গেলে আর পদ থাকে না।
তিনি বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, অবশ্যই এটা ঠিক। উদ্দেশ্য মহৎ ছিল কিন্তু পদ্ধতি ভুল ছিল। আবার সরকার এর দায় নিতে চায়নি।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সাংবাদিকরা এই ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করেনি। তারা প্রচার করেছে সে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এখানে সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিবাচক হতে পারতো। তারা যদি ইতিবাচক প্রচার করতো তাহলে সরকার কোনোদিনও বেকায়দায় পড়তো না। তিনি বলেন, এখন কি মাদকের বিরুদ্ধে কেউ নামবে?
গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে দৈনিক জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনি বলেন, কিছু গণমাধ্যম ১/১১’র সময় ফ্রেমিং করেছে। এরপর আমরা ফ্যাসিবাদী সরকার পেলাম। তারপরও তাদের কোনো শিক্ষা হয়নি। আবার সেটা শুরু করেছে। ইশরাকের ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে, ফ্রেমিং করে মূল ইস্যুকে আড়াল করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগÑ ২৪’র আগস্টের পর থেকেই ঢাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের টার্গেট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রথমে মহানগর উত্তরের সাবেক নেতা সাইফুল আলম নিরব, এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবীন, উত্তরের আমিনুল হক, এম এ কাইয়ুম এবং সর্বশেষ ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তারা বলছেন, যারা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং নানা ফ্রেমিং করছে তারা দীর্ঘমেয়াদি টার্গেটে এসব করছে। বিশেষ করে সামনে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তখন একদিকে যেমন এসব ফ্রেমিংকে তারা কাজে লাগাবে অন্যদিকে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীকে নিষ্ক্রিয় করার রাজনৈতিক ফায়দাও উঠবে তাদের ঘরে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ঢাকার রাজনীতিতে সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকা (এখন তার উত্তরসূরি ইশরাক হোসেন), স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপি, মরহুম বিএনপি নেতা সালাহউদ্দীন আহমেদ, উত্তরের আমিনুল হক, এম এ কাইয়ুম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কিন্তু নির্বাচনের আগে তাদের বিতর্কিত করা ও বিভক্তি সৃষ্টি করে দলকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ‘ফ্রেমিং’ ও অপপ্রচার; যার মাধ্যমে মাঠের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বিতর্কিত করে ক্ষমতা ও দল থেকে ছিটকে ফেলা হচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের এই পুঞ্জিভূত ক্ষোভ এবং বিশেষ করে ঢাকার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তিদের রহস্যজনক নীরবতা দলটিকে এক চরম সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
সরকারে সুবিধাবাদীদের দাপট : বিগত দেড় দশকে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তৃণমূল ও রাজপথের নেতারা পরিবার হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আর বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। কর্মীদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল, পটপরিবর্তনের পর সরকার ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে সেই ত্যাগীদের মূল্যায়ন হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। সরকার গঠন ও ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট বলয় অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে যাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়ার সাহসটুকুও দেখাননি কিংবা বিদেশে নিরাপদ জীবনযাপন করেছেন, পটপরিবর্তনের পরপরই তারাই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী বিএনপির এক নেতা বলেন, আমরা বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়ে বাড়িঘর ছেড়েছি। অথচ দল ক্ষমতায় আসার পর কোনো দাবি বা কথা নিয়ে গেলে দেখি এমন লোকজন সামনে বসে আছেন যাদের দুঃসময়ে রাজপথে কখনো দেখিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক নেতা বলেন, দল যখন মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালদের মতো নেতাদের মূল্যায়ন করেনি সেখানে অন্যরা আর কি আশা করতে পারে?
সুপরিকল্পিত ফ্রেমিং : বিএনপির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলোÑ দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঠা-া মাথার রাজনৈতিক ফ্রেমিং। ক্ষমতার ভেতরে থাকা সুবিধাবাদী চক্রটি ভালো করেই জানেÑ মাঠের জনপ্রিয় ও গণভিত্তিসম্পন্ন নেতারা যদি সামনে চলে আসেন, তবে তাদের অনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ কারণেই শুরু হয়েছে চরিত্র হনন ও মিডিয়া ট্রায়ালের এক নোংরা খেলা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করে জনপ্রিয় নেতাদের নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দখলদারিত্বের ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হয়। সাধারণ সমর্থকদের আবেগ কিংবা বাস্তব সত্য যাচাই না করেই ওপর মহল থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মাঠের নেতাদের ‘অপরাধী’ হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে দলের প্রতিপক্ষরা সরাসরি রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী ও মরহুম সাদেক হোসেন খোকার সন্তান প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মূলত সেই ষড়যন্ত্রেরই চূড়ান্ত রূপ।
কারণ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ঢাকার রাজপথে বুক চিতিয়ে নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। গ্রেফতার হয়েছেন, রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও মাঠ ছাড়েননি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন এক আপসহীন প্রতিচ্ছবি। ইশরাকের রয়েছে নিজস্ব গণভিত্তি, স্পষ্টভাষিতা এবং তরুণ কর্মীদের সংগঠিত করার অসাধারণ ক্ষমতা। ক্ষমতার ভেতরে থাকা ড্রয়িংরুম রাজনীতিকরা তাকে নিজেদের জন্য বড় হুমকি মনে করে। ফলে একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ইশরাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অপপ্রচার চালানো হয়। দলীয় পর্যায় থেকে তাকে সুরক্ষা দেয়ার বদলে বরং তাকে জনসমক্ষে বিতর্কিত করার সুযোগ করে দেয়া হয়। অথচ একই সময়ে সরকারের বা দলের ভেতরে থাকা অন্য সুবিধাবাদীরা যখন গুরুতর অনিয়মে জড়াচ্ছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হচ্ছে না। এই দ্বিমুখী নীতি তৃণমূলের কর্মীদের মনে মারাত্মক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, একদিকে যখন সামান্য অজুহাতে ত্যাগীদের বলি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বসে থাকা স্বার্থান্বেষী মহলের কর্মকা-ে দলের সুনাম প্রতিনিয়ত ধূলিসাৎ হচ্ছে।
যদিও ইশরাকের ঘটনাটিকে কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধনী ও গণমানুষের ভালোবাসায় সামনে তাঁর জন্য আরো বৃহত্তর ও গণমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন। তিনি এক স্ট্যাটাসে বলেন, ইশরাক হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে অনেক স্মৃতি ও পথচলা। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে তাঁর ভূমিকা ও গৌরবোজ্জ্বল পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। পাশাপাশি বিএনপির ইয়ুথ এনগেজমেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক যোগাযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেমকে তিনি যেভাবে নিজের বিশ্বাসে ধারণ করেন, তা সত্যিই অনন্য।
তিনি বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এত আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সেটির লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই। প্রতিমন্ত্রীর পদ বা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আত্মত্যাগকে পরিমাপ করা যায় না। সাময়িক যেকোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান অনেক বেশি অর্থবহ।
মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের সরকারের বার্তা এখানে অনেকটাই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন তরুণ নেতার সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগের বাস্তবায়নেও যদি কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে, সেখানেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথযাত্রায় সামনের দিনগুলোতেও সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে দায়বদ্ধতার ধারা বজায় থাকবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার যখন দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে, নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে তখন শুরু থেকেই একটি শ্রেণি নানাবিধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান। সেটি দল হোক কিংবা সরকার।