মিসর জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসানের দুই স্ত্রী ছুটিতে গিয়ে প্রকাশ্যে চুল ধরে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হাসান নিজেও জ্ঞান হারিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে আল আরাবিয়া।
দেশটির উত্তর উপকূলের বিলাসবহুল পর্যটন এলাকা পোর্তো মারিনায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন হাসান। সেখানকার একটি বিলাসবহুল হোটেলের ক্যাফেতে তার দীর্ঘদিনের স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়ি এবং দ্বিতীয় স্ত্রী দিনা ‘ড্যান অ্যাডাম’ মোস্তফার মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। হতবাক পর্যটকদের সামনেই দুই নারী একে অপরের চুল ধরে মারামারি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীদেরও ডাকা হয়। সংঘর্ষে দুজনেরই শরীরে কাটা ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে দুই স্ত্রীর এমন সংঘর্ষের ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন হাসান। তাদের থামাতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান।
তবে স্কাই নিউজ আরাবিয়াকে হাসানের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেলের অজ্ঞান হওয়ার খবরটি গুজব। তিনি দাবি করেছেন হাসান বর্তমানে সুস্থ আছেন।
ঘটনার পর হাসান তার প্রথম স্ত্রী হোয়াইদাকে তালাক দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। কায়রোর একটি রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেন তিনি।
হোয়াইদার সঙ্গে হাসানের দীর্ঘ কয়েক দশকের সম্পর্ক ছিল। তাদের তিন সন্তানও রয়েছে।
দ্বিতীয় স্ত্রী ড্যান অ্যাডামের আইনজীবী মোহাম্মদ শামস স্কাই নিউজ আরাবিয়াকে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বিষয়টি বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াবে না। কিন্তু পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’ পোর্তো মারিনায় ছুটির সময় তাঁর মক্কেল পূর্বপরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন শামস।
হাসান ২০১৫ সালে হোয়াইদার সঙ্গে বিবাহিত থাকা অবস্থাতেই ড্যান অ্যাডামকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২২ সালে কিছু সময়ের জন্য তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।