বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তানজিদ হাসান তামিম। ব্যাটিংয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসী হয়ে ওঠার সামর্থ্য গত মে মাসে তার টেস্ট ফরম্যাটেরও দরজা খুলে দেয়। সেই তামিম অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই বাজিমাত করলেন। স্টার্ক-কামিন্সদের ওপর চড়ি ঘুরিয়ে তুলে নিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইনে শুরু থেকেই দলগত নৈপুণ্য দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথমে হাসান মাহমুদসহ পেস বিভাগের দাপট এবং পরে ব্যাট হাতে তানজিদ, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তরা বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। স্বভাবতই ম্যাচের পরিস্থিতি অনুসারে রক্ষণ এবং মারমুখী শট খেলে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ।
১৮৮ বলে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার আগেই ধারাভাষ্যকারদের কাছে স্তুতি পেয়েছেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। চ্যানেল সেভেনের আলোচনায় ধারাভাষ্যকার ট্রেন্ট কোপল্যান্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, সত্যিকারভাবেই তানজিদ তিন ফরম্যাটের তারকা হয়ে উঠছে। যেমন দ্রুতগতির বোলারদের বিপক্ষে খেলার গতি বা ছন্দ পরিবর্তন করা কিংবা খুব সহজেই মিড-অফের ওপর দিয়ে বল পাঠানো, তা দেখে মনে হয় তার খেলায় বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো বৈচিত্র্য আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে সে নিজেকে বেশ ভালোভাবে গড়ে তুলেছে।’
টেস্টে অভিষেক হওয়ার আগে তানজিদের পরিচয়টা ছিল মূলত সীমিত ফরম্যাটের জন্য উপযুক্ত ব্যাটার হিসেবে। এরপর সিলেটে গত মে মাসে টেস্ট ফরম্যাটে তার অভিষেক হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। যদিও দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি করেন স্রেফ ৩০ রান। এবার টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ইনিংস খেলতে নেমে পেয়ে গেলেন ম্যাজিক ফিগার। দীর্ঘতম সংস্করণে লম্বা সময় ব্যাটিং করার ধৈর্য দেখাতে পারেন কি না সেই সংশয়ও পায়ে ঠেললেন তানজিদ। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৮টি চার ও এক ছক্কায়।
বাংলাদেশ অনুমিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে দেখে অবাক চ্যানেল সেভেনের আরেক ধারাভাষ্যকার গ্রেগ ব্লুয়েট, ‘আমরা ভেবেছিলাম অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের টপ-অর্ডারকে সহজেই ধসিয়ে দেবে, কিন্তু তারা অস্ট্রেলিয়াকে বেশ ভালোই বেগ দিয়েছে। মনে হচ্ছিল বা বাইরে থেকে দেখে এমনটাই মনে হয়েছে যে, শুরুর দিকেই অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বলটা বেশ নরম হয়ে গিয়েছিল। গতকাল দিনের শুরুতে বলের যে মুভমেন্ট বা নড়চড় দেখা গিয়েছিল, তা আর ছিল না।’
‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে বিষয়টি আমার ভালো লেগেছে এবং এই জুটিটি (তানজিদ-শান্ত) যা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, তা হলো তাদের খেলার চমৎকার ভারসাম্য। একদিকে যেমন তারা অত্যন্ত দৃঢ় রক্ষণাত্মক খেলা উপহার দিচ্ছে, তেমনি মাঝেমধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাবও দেখাচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বেশ হতাশাজনক’, আরও যোগ করেন ব্লুয়েট।